নুরুল আমিন হাসান, (ঢাকা): রাজধানীর উত্তরাসহ ডিএমপির বিভিন্ন প্রবেশ পথ দিয়ে অস্ত্র, মাদক ও চোরাই মালামাল প্রবেশ রোধ ও ছিনতাই ঠেকাতে পুলিশের চেকপোস্টের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
[caption id="attachment_1080" align="alignnone" width="1024"]
ছবি: মেঘনা টেলিভিশন[/caption]
ময়মনসিংহ - ঢাকা মহাসড়কের উত্তরার আব্দুল্লাহপুরের পলওয়েল মার্কেটের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক জানান।
তিনি বলেন, 'উত্তরার আব্দুল্লাহপুর, কামাড়পাড়া ও তুরাগের ধউর চেকপোস্টে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চেকপোস্টের কার্যক্রম দুই শিফটে ২৪ ঘন্টা অব্যাহত থাকবে।
এসম আব্দুল্লাহপুর এলাকায় দেখা যায়, উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ, ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) স্পেশাল এ্যাকশন গ্রুপের কে-নাইন ইউনিট ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে চেকপোস্টের কার্যক্রম চালানো হয়।
[caption id="attachment_1075" align="alignnone" width="1024"]
ছবি: মেঘনা টেলিভিশন[/caption]
উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক জাহান বলেন, 'মাননীয় পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে উত্তরাসহ ডিএমপির সাতটি বিভাগে আমরা দীর্ঘ মেয়াদী চেকপোস্ট কার্যক্রম শুরু করেছি। এটি দুই শিফটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলবে।
তিনি বলেন, 'ডিএমপির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরইমাল উদ্ধার ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের জন্যই অভিযান চলছে।
ডিসি রওনক জাহান বলেন, 'আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ছিনতাইকারীর দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তাদেরকে প্রতিহত করা ও পুলিশি কার্যক্রম
দৃশ্যমানের মাধ্যমে আরো উন্নত করার লক্ষ্যে আমরা এই কার্যক্রম শুরু করেছি।
সিটিটিসির কে-৯ টিমের সহযোগীতায় আমরা অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করতে পারবো বলে আশাবাদী। এতে আমরা সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।
ডিসি বলেন, 'অস্ত্র, মাদক, ছিনতাইকারীদের ঢাকায় প্রবেশ ঠেকানোর লক্ষ্যেই চেকপোস্টের কার্যক্রম ফের শুরু হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন আছে কি না জানতে চাইলে ডিসি রওনক বলেন, 'যেসব অপরাধের কথা আমরা বললাম, সেগুলোর জন্য পুলিশের হাতেই আইনানুগ ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন হলে পরে আমরা ভাববো।
কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি রুওনক বলেন, 'উত্তরার কিশোর গ্যাংগুলো অন্যান্য মিরপুর, তেজগাঁও এলাকার মত পাচ্ছি না। আমরা একটি আদালা ফরমেটে তাদেরকে পাচ্ছি। গাজীপুরের টঙ্গী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বস্তিতেই তাদের আখড়া। সন্ধ্যার পর তারা উত্তরা এলাকাতে প্রবেশ করে।
ছিনতাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, 'গত ১ মাসে শুধু মাত্র বিমানবন্দর থানা পুলিশই ৭৮ জন কিশোর অপরাধী বা ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এসব ছিনতাইকারীদের কারোরই স্থায়ী কোন ঠিকানা নেই। বেশির ভাগই ছিন্নমূল। তাদের ঠিকানা ফুটপাতেই। যার কারণে প্রথাগত আইনানুগ ব্যবস্থায় থামাতে পারছিলাম না। যার কারণে বিমানবন্দর ক্যাব কোর্টের মাধ্যমেই এসব ছিনতাইকারীদের সাঁজার ব্যবস্থা করা হয়েছেন।
তিনি বলেন, 'এসব কিশোর ছিনতাইকারীদের তালিকা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাদেরকে সংশোধনের জন্য আমরা সমাজ সেবা সহ অন্যান্য অধিদফতরের মাধ্যমে চেষ্টা চালাবো। কারণ, তাদের সামনে অদূর ভবিষ্যৎ পড়ে আছে। রাষ্ট্রের কাজ হচ্ছে, তাদেরকে ভালো মানুষ রূপে পরিণত করা।