প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৩, ২০২৬, ২:২৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৩, ২০২৫, ১২:৩১ পি.এম
টঙ্গীর শীর্ষ ফেনসিডিল সম্রাজ্ঞী আরফিনা,কোন অদৃশ্য ইশারায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে?– পর্ব-১

মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম:
গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পূর্ব থানাধীন ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাংক মাঠ বস্তি (কো-অপারেটিভ মাঠ) এলাকায় শীর্ষ মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত আরফিনা বেগম। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘বড় আপা’ নামে খ্যাত, আবার অনেকে তাকে ‘জামালের বউ’ নামেও চেনেন।
টঙ্গীর কোথাও ফেনসিডিল না পাওয়া গেলেও আরফিনার কাছে তা সবসময়ই সহজলভ্য। দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে লিপ্ত থাকলেও গত ৬-৭ বছরে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ তাকে একবারও গ্রেপ্তার করেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আরফিনা নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে কয়েকজন অসাধু পুলিশ সদস্য এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার ছত্রছায়ায় বস্তিতে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ ব্যাংক মাঠ বস্তি থানা থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরত্বে অবস্থিত।
মাদক ব্যবসাকে আড়াল করতে আরফিনা বেছে নিয়েছেন অভিনব পন্থা— এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলারশিপ। এই ব্যবসার আড়ালে চলছে মাদকের জমজমাট কারবার।
এলাকাবাসীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আরফিনা শুধু যুব সমাজকে ধ্বংস করছে না, বরং ভয় ও প্রভাব বিস্তার করে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং পুলিশের একাংশকে ম্যানেজ করেই চলছে তার মাদক সাম্রাজ্য।
প্রথমে কিছু আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায়, পরে ৫ আগস্টের পর থেকে কয়েকজন বিএনপি নেতার ছায়াতলেই চলতে থাকে তার অবৈধ কর্মকাণ্ড।
তার বিরুদ্ধে একাধিকবার জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমার থানা এলাকায় সবসময় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। আমরা রিকভারি ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করতে পারি না। বস্তির মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। খুব শিগগির টঙ্গীর বস্তিগুলোতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও জানান, নিয়মিত মাদকসহ অনেককে গ্রেপ্তার করে মামলা দেওয়া হচ্ছে।
Copyright © 2026 মেঘনা টিভি. All rights reserved.