স্টাফ রিপোর্টার:
নরসিংদী রায়পুরার গাজীপুরে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টা বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগে রায়পুরা থানায় মামলা করা হয়েছে।
রায়পুরা থানার মামলা নং (৩০) ১৭/০১/২০২৬ শনিবার
(১৭ জানুয়ারি) সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ,করে রায়পুরা থানায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষন চেষ্টা,পর্নোগ্রাফি ও শারীরিক নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
এর আগে শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯ থেকে ১০ টার দিকে উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নে গাজীপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার বিবরনে জানা যায়,গত১৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৯ টা থেকে ১০ টার মধ্যে মামলার বাদী হাফসা বেগম প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাহিরে বাথরুমে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা মাহবুব ও তার সঙ্গীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে পাশে নির্জন এলাকায় একটি খরকুটায় (খেরের পাড়া) নিয়ে মাহবুব ধর্ষনের চেষ্টা করে, বিবস্ত্র অবস্থায় শাহ পরান ভিডিও ধারণ করে। রাহিম, ত্রিশাদর, সাজিদ বাদীনির হাতে পায়ে চেপে ধরে রাখে রাখে।
বাদীনি তার সম্ভ্রম রক্ষা করতে আত্ম চিৎকার করলে তাকে দাড়ালো অস্ত্রের ভই দেখিয়ে চুপ থাকতে বলে, বাদীনিকে দুই তিন ও চার নং আসামিরা তাদের কোমরে থাকা বেল এবং লাঠি দিয়ে উপোচোপড়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। ভিডিওতে দেখা যায় বাদিনী নিজেকে আত্মরক্ষা করতে তাদের হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে এবং তাদেরকে হাত থেকে বাঁচতে তাদেরকে ধর্মের বাবা পর্যন্ত ডাকে।
তারপরও নরপশুদের হাত থেকে রেহাই পায়নি গৃহবধূ হাফসা বেগম। হাফসা বেগমের আত্মচিৎকারে তার ভাবি ও তার মা টসলাইট নিয়ে বাহির হয়ে কে কে বলে শব্দ করে আগালে দুর্বৃত্তরা হাফসা বেগমকে ছেড়ে পালিয়ে যায়।
বিবস্ত্র অবস্থায় হাফসা বেগমকে বাসায় নিয়ে তার ভাবি কাপড়-চোপড় পরিয়ে, ঘটনার বিস্তারিত শুনেন।ঐ দিন রাতে ঘন্টা খানেক পরে সন্ত্রাসীরা আবারও হাফসার বসত করে গিয়ে দরজা খুলতে বলে এবং তারা চিল্লায়া বলে দরজা না খুললে আমরা দরজা ভেঙে ফেলব। তখন হাফসার মা প্রতিবেশীদেরকে ফোন দিলে তারা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।
হাফসার মা ঘটনাটি তাৎক্ষণিক চরমধুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় মেম্বারকে অবহিত করে বলে এই প্রতিবেদককে জানান।
ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়ার কারণে, এলাকাবাসী উল্লেখিত আসামিদেরকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ ঘটনার পর থেকে আসামি শাহ পরান (২২) ও সাজিদ (২১) পালাতক রয়েছেন। শাহ পরান উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। সাজিদ একই গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামের মাহাবুব (২৫) পিতা আয়ুব আলী, দীর্ঘদিন ধরে বাদিনী হাফসা আক্তার কে কো প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিবাদীনি মাহবুবের কু প্রস্তাবে রাজিনা হলে, তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে থাকতো। বাদিনীর বাবা বিদেশ থাকায়, তার পরিবারে কোন ছেলে মানুষ নাই। হুমকির বিষয়টি নিয়ে বাদীনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। উক্ত ঘটনাটি স্থানীয় মেম্বার রহিছ মিয়াকে কে জানালে, কোন প্রতিকার করেন নি। রহিম মিয়া (২৩) পিতা হোসেন মিয়া, গ্রাম সমিবাদ।এিশাদ (২২)পিতা রুহিছ উদ্দিন মেম্বার,শাহপরান (২২)পিতা বাবুল মিয়া ,সাজিদ (২৩) পিতা কামাল হোসেন সকালে বাড়ি গাজীপুরা গ্রামে।
উল্লেখ্য উক্ত ঘটনার পর থেকে হাফসার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় হাফসা বেগমের পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। হাফসার মা এবং তার পরিবারের লোক জন, এই প্রতিবাদকে জানান, ঘটনার পর থেকে আসামিরা আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।আমরা মামলা করেছি, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষের লোকজন আমাদেরকে নানান ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালছেছে।
উল্লেখ্য যে, একই গ্রামে একই ধরনের ঘটনা কিছু দিন পূর্বে ও ঘটেছিল। যা অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেয় গাজিপুর গ্রামের চরমধুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাজাহান তালুকদার মেম্বার।