রায়পুরা প্রতিনিধি:
এই না হলে নেতা। দলের এবং পদপদবীর নাম ভাঙিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কাজ নিয়ে ও এর বিপরীতে ৬০ টাকা নিয়েও সে কাজ না করে চুপ করে থাকেন তিনি। উনার ভাবখানা এমন যে সরকারী কাজ এবং সরকারে টাকা।এর তো আর মা-বাপ নেই। কে আর খোঁজ নিবে। দীর্ঘ ২০ বছর পর দল আবার ক্ষমতা। তাছাড়া ক্ষমতাশীন দলের নেতা বলে কথা। এমন ভাব নিয়ে চলা সেই নেতা আর কেউ নন তিনি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. মোশারফ হোসেন সাগর।
মো. মোশারফ হোসেন সাগর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল চাঁনপুর ইউনিয়নের বগডহর কান্দি গ্রামের সদাগরকান্দি,আকবর বাড়ীর মোকলেছ মিয়ার ছেলে।
তিনি কেবল টিআর এর বরাদ্ধ আত্মস্ত করেই ক্ষান্ত থাকেন নি।
তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।উপজেলা যুবদলের এই নেতা হতদরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য আসা প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হজম করে নিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন নি। আর তা একজনের জন্য আসা বরাদ্ধকৃত প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার নয় ১৫ জন অসহায় দরিদ্র মানুষের এই ঈদ উপহার হরিলুট করেন এই নেতা।
এছাড়াও খেয়াঘাটের ইজারা পাইয়ে দিবেন বলে খোকা মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেন। কিসের খেয়াঘাট কিসের ইজারা? সেই টাকা এই নেতা আত্মস্ত করেছে। খোকা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাকে বিভিন্ন রকম হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে এই প্রতিবেদককে জানান খোকা।
কোন এক রসিকজন এই নেতা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন ’উনার সম্পর্কে যা শুনলাম তাতে মনে হচ্ছে তিনি দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রায়পুরা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. মোশারফ হোসেন সাগর দলীয় পদপদবীর প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসা ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আসা গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণ প্রকল্পের একটট কাজ বাগিয়ে নেন। সেই কাজের বিপরীত অগ্রীম হিসেবে ৬০ হাজার টাকাও নেন। কিন্তু টাকা নিয়ে যাওয়া পর্যন্তই। এরপর আর তার কোন খবর নেই। কাজ করবেন তো দূরের কথা এর দ্বারে কাছেও যাননি। সরকারের টাকা নিজের মনে করে নিয়ে গেছেন ভাবখানা তার ঠিক তাই।
তাছাড়া গত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সমাজের গবিব, অসহায় হতদরিদ্র মানুষ যাতে ঈদের একটা নতুন কাপড় গায়ে চড়াতে পারেন নিজ ঘরে চুলা জ্বালতে পারেন সে কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য নগদ অর্থসহ উপহার সামগ্রী বরাদ্ধ করেন। যার নামকরণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার।প্রধানমন্ত্রীর সেই ঈদ উপহারও এই নেতা হরিলুট করেন।
[caption id="attachment_3824" align="aligncenter" width="260"]
ফাইল ছবি অভিযুক্ত যুবদল নেতা মোশারফ হোসেন[/caption]
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার দেওয়া যাদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র তারা হলেন, ইউনিয়নের বগডহর কান্দি গ্রামের চাঁন মিয়ার স্ত্রী হালিমা বেগম, সমদে মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান, সুজাদপুর গ্রামের আমানত খাঁর ছেলে সবুর মিয়া, মো. মহসীন মিয়ার ছেলে মো. শরীফ মিয়া, সওদাগর কান্দি গ্রামের (৭ নং ওয়ার্ড) জাহার আলী মেয়ে শিরিন বেগম, আবু তাহেরের মেয়ে রহিমা বেগম, ইসলামের মেয়ে রূপালী বেগম, টুকু মিয়ার ছেলে সুরুজ মিয়া সওদাগরকান্দি গ্রামের (৮ নং ওয়ার্ড) মো. আবুল হাসেমের স্ত্রী মোসা. হোসনা বেগম, কুদ্দুছ মিয়ার স্ত্রী রেহেনা বেগম, মো খাসু মিয়া, দুলাল মিয়া, সামেদ মিয়ার ছেলে মো. হাবিবুর রহমান, মহিনীপুর গ্রামের মো. চাঁন মিয়ার স্ত্রী হালিমা বেগম, ইব্রাহিম মিয়ার স্ত্রী রেহেনা বেগম, শব্দর আলীর ছেলে নিয়ামত মিয়া ও আটি মুজিদপুর গ্রামের মহর উদ্দিনের স্ত্রী শাহিনুর আক্তার।
এই ১৫ জন গরিব অসহায় মানুষের কাছ থেকে জাতীয় পরিচযপত্র নিয়েও তাদের ন্যায্য হওক থেকে বঞ্চিত করে এই এই যুবদল নেতা। উল্টো জন্য বরাদ্ধকৃত প্রধান মন্ত্রীর ঈদ উপহার নিজেই আত্মস্ত্ব করে।