নরসিংদী প্রতিনিধি:
নিজের ভাগ্য বদলাতে একসময় দেশ ছেড়েছিলেন শরিফুল ইসলাম শরিফ। কিন্তু জীবনের সফলতার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠেও তিনি ভুলে যাননি নিজের জন্মভূমি, গ্রামের মানুষ আর শেকড়ের টান। প্রবাসে থেকেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন এক মানবিক মুখ, এক অনুপ্রেরণার নাম।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার নোয়াদিয়া ইউনিয়নের হিজুলিয়া গ্রামের সন্তান শরিফুল ইসলাম শরিফ ১৯৯৬ সালে জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। অচেনা পরিবেশ, কঠিন পরিশ্রম আর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তিনি ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। কিন্তু বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়েও তার হৃদয়ে সবসময় জায়গা করে ছিল গ্রামের মানুষ আর দেশের প্রতি ভালোবাসা।
প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও শরিফ নিয়মিত খোঁজ রাখেন গ্রামের মানুষের। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তিনি নানা সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করতে বিনামূল্যে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করেন এবং স্থানীয় খেলার মাঠ উন্নয়নে সহায়তা দেন।
শুধু তাই নয়, এলাকার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কবরস্থানে আর্থিক অনুদান প্রদান করে চলেছেন তিনি। অসহায় ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করেছেন বহুবার। গৃহহীন ও হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ এবং আর্থিক সহায়তাও দিয়েছেন নীরবে।
স্থানীয়রা জানান, শরিফ শুধু একজন প্রবাসী নন, তিনি গ্রামের মানুষের আস্থার প্রতীক। বিপদ-আপদে যাকে কাছে পাওয়া যায়, তিনিই শরিফ। তার এমন মানবিক কর্মকাণ্ডে উপকৃত হচ্ছেন সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
গ্রামের সেই সাধারণ ছেলেটিই আজ অনেকের কাছে স্বপ্ন আর মানবিকতার প্রতিচ্ছবি। শরিফ প্রমাণ করেছেন, দেশপ্রেম শুধু কথায় নয়—মানুষের কল্যাণে কাজ করার মধ্যেই এর প্রকৃত প্রকাশ ঘটে।
প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া শরিফুল ইসলাম শরিফ আজ সত্যিই এক মানবিক উদাহরণ।
শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, মানবিক দিক থেকে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। এটি নাম কিংবা প্রচারের জন্য নয়, বরং মানুষের কল্যাণে ইহকাল ও পরকালের জন্য আমার ক্ষুদ্র একটি প্রচেষ্টা।