মোঃ শরীফ মিয়া নিজস্ব প্রতিনিধি:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের মাহমুদ নগর হিন্দুপাড়ায় গ্রাম পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র বিশ্বাস নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার স্ত্রী স্বপ্নারাণী বিশ্বাস থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় প্রভাবশালী রাসেল মৃধা ও তার সহযোগিরা অস্ত্রের মুখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি এবং বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাসেল মৃধা ও তার সহযোগিরা এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অসহায় মানুষদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাহমুদ নগর হিন্দুপাড়ায় কয়েকটি পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।নিখোঁজ সুমন চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী স্বপ্নারাণী বিশ্বাস বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে আমার স্বামীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল রাসেল মৃধা। আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি লিখে দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে সম্পত্তি লিখে নেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপর থেকেই আমার স্বামী নিখোঁজ রয়েছেন।’তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘এর আগে আমার দুই ভাসুরকে জোরপূর্বক সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নিয়ে গিয়ে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির দলিল করে নেওয়া হয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর আমার বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে স্বামী নিখোঁজ থাকায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয় বাসিন্দা বিমল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘রাসেল মৃধা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের অসহায় মানুষদের বিভিন্ন কৌশলে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি-জমা দখল করে আসছে। আমিও তার কর্মকা-ের শিকার। তার প্রভাবের কারণে পুরো হিন্দুপাড়া আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।’তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রাসেল মৃধা মুঠোফোনে বলেন, ‘সুমন চন্দ্র বিশ্বাস আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। সেই টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য সে এখন আত্মগোপনে রয়েছে। তার নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হয়েছে, তবে এখনো সমাধান হয়নি।’এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার সুমন চন্দ্র বিশ্বাসকে দ্রুত উদ্ধার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।