স্টাফ রিপোর্টার:
রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিবেদিত থেকে কাজ করেছেন। কিন্তু আজ জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতায় চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে না পেরে মানবিক সহায়তার আবেদন জানাতে বাধ্য হয়েছেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার তৃণমূল বিএনপির ত্যাগী কর্মী মোঃ শিপন হোসেন।
তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার খোদ্দ নগর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতা ফজলে রহমান এবং মাতা- বিবিজান বেগম। বর্তমানে জীবিকার প্রয়োজনে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর মুন্নু নগর এলাকার পাগার মধ্যপাড়া (চাঁন মিয়া হাজীর বাড়ী)-তে বসবাস করছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন শিপন হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন তিনি। দলের প্রতি ভালোবাসা ও আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে রাজনীতি করলেও ব্যক্তিগত জীবনে কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেননি। একজন ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ তৃণমূল কর্মী হিসেবেই তিনি পরিচিত।
বর্তমানে তিনি অত্যন্ত জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ইতোমধ্যে দুইবার স্ট্রোক করেছেন। পাশাপাশি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর বর্তমানে মস্তিষ্কের জটিলতা, ডায়াবেটিস এবং কিডনিতে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। অসুস্থতার কারণে শরীর প্রায় অবশ হয়ে গেছে এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও পারছেন না।
জীবিকার তাগিদে টঙ্গীতে এসে চাকরি ও ছোট ব্যবসা করে সংসার চালাতেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ব্যবসার সবকিছু বিক্রি করতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে তিনি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।
ইতোমধ্যে চিকিৎসা সহায়তার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর, আগারগাঁও-এ সরকারি অনুদানের আবেদন করেছেন তিনি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সহকর্মী, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং মানবিক সংগঠনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
বিশেষ করে তিনি বর্তমান সরকারের মানবিক প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সদয় দৃষ্টি ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন, যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করে তিনি আবার সুস্থ জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
শিপন হোসেন বলেন, "সারা জীবন দলের আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করেছি। আজ অসুস্থ হয়ে সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি। চিকিৎসার সুযোগ পেলে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচতে চাই। দেশের মানবিক মানুষ ও সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন—আমাকে বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।
পরিবারের সদস্যরাও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষের প্রতি এগিয়ে এসে তাঁর চিকিৎসা ব্যয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।