শিবপুর প্রতিনিধি:
শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া উত্তরপাড়া গ্রামের অসহায়, নিঃসন্তান বিধবা মিলন রাণী দাসের ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত জীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপনের সংবাদ দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন ও কালবেলা পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। সংবাদটি প্রকাশের পরপরই মিলন রানী দাসের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন।
তিনি সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে নিজ উদ্যোগে মিলন রাণী দাসের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন (টিন) এবং ইউএনওর ব্যক্তিগত ভাবে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস করে আসা মিলন রাণী দাস প্রশাসনের এই সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এমন দ্রুত সাড়া পাওয়ায় তিনি নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনের দেওয়া ঢেউটিন এবং এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় মিলন রাণী দাসের বসতঘরটি দ্রুত নির্মাণ করা হবে । তারা বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের তাৎক্ষণিক মানবিক উদ্যোগ অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্বশীলতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এতে তারা ইউএনও'র প্রশংসা করছেন।
এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এই মানবিক পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, ভবিষ্যতেও সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে প্রশাসন একইভাবে দাঁড়াবে—এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, মিলন রানী দাসের মানবেতর জীবনযাপন করার খবরটি সংবাদ পত্রে এবং ফেসবুকে দেখে সাথে সাথে খবর নিয়ে নিজে গিয়ে পরিদর্শন করেছি। তিনি ভাঙা চুড়া ঘরে বসবাস করছেন পত্রিকায় দেখলাম , কিন্তু গিয়ে যা দেখলাম তা খুবই খারাপ অবস্থা। ঘরে ভিতরই ওনার রান্না, খাবার, থাকার জায়গা। যা দেখতে একেবারে নাজুক। এমন পরিস্থিতিতে কোন মানুষ থাকতে পারে না। দেখে মনটা খুবই খারাপ লেগেছে।
তিনিও একজন মানুষ। অথচ একেবারে নিঃস্ব, অসহায়। আমি তাৎক্ষণিকভাবে দুই বানডেল ঢেউটিন ও কিছু আর্থিক সাহায্য করেছি। ওনার ঘরটি নির্মাণ করতে আরো সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি অন্যান্য সহায়তা ও করা।