নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চর মধুয়া ইউনিয়নের সমীবাদ গ্রামে একটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। গত ২৯ তারিখ (সোমবার) বেলা ১১টার দিকে এই চাঞ্চল্যকর অপরাধ সংঘটিত হয়।
সরজমিন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, ঘটনার দিন ওই সময়ে সমীবাদ গ্রামের বাসিন্দা মিজান মিয়ার পুত্র পাভেল মিয়ার বসতবাড়িটি সম্পূর্ণ জনশূন্য ছিল। ওই মুহূর্তে বাড়িতে একা অবস্থান করছিলেন পাভেল মিয়ার স্ত্রী। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ৫ থেকে ৬ সদস্যের একটি সশস্ত্র, মুখোশধারী ও দাড়িধারী দুর্বৃত্তের দল আকস্মিকভাবে বাড়িতে চড়াও হয়।
দুর্বৃত্তরা গৃহভ্যন্তরে প্রবেশ করে গৃহবধূকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং তার মাথায় গুরুতর আঘাত হানার ত্রাস সৃষ্টি করে। ওই গৃহবধূর আকস্মিক আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে ডাকাত দল ঘরের আলমারি ও আসবাবপত্র তসনজ করে নির্বিচারে তল্লাশি চালায় এবং দুটি স্বর্ণের আংটি ও একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্বৃত্তরা আসবাবপত্র তসনজ করলেও কোনো ভাঙচুর চালায়নি। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মিজান মিয়ার মেয়ে সাফা আক্তার ঘরের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঘুরে ঘুরে সাংবাদিকদের দেখান। এ সময় স্থানীয় জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে এগিয়ে এসে ডাকাত দলকে ধাওয়া করলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুজিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই সংঘটিত ঘটনা সম্পর্কিত বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
দিবাকালোকে সংঘটিত এই সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অনতিবিলম্বে এলাকার নিরাপত্তা জোরদার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিকরণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।