
নূর আহমেদ চৌধুরী মানিক/রুবি আঞ্জুম, রায়পুরা,নরসিংদী থেকে:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, ককটেল তৈরির সামগ্রী, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
[caption id="attachment_4856" align="aligncenter" width="300"]
ছবি সংগৃহীত[/caption]
অভিযানে নেতৃত্ব দেন এবং উপস্থিত ছিলেন:
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মাহবুবুর রহমান,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো: আশিকুর রহমান,রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জনাব বায়েজিদ বিন মনসুর,রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মজিবুর রহমান।
[caption id="attachment_4857" align="aligncenter" width="169"]
ছবি সংগৃহীত[/caption]
অভিযানে রায়পুরা থানা পুলিশ ছাড়াও জেলা ডিবি, এপিবিএন, আরআরএফ এবং র্যাব-১১ এর একটি যৌথ টিম অংশ নেয়। যৌথ এই দলটি রায়পুরা থানাধীন মেঘনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের চাঁনপুর ইউনিয়নের সদাগরকান্দি, মোহিনীপুর এবং বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান চালায়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে দুটি পৃথক স্থান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়:
প্রথম অভিযান (সদাগরকান্দি গ্রাম): গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদাগরকান্দি গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের (৪৪, পিতা- ওয়াছেক আলী) টিনশেড বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়।
১০ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ,২টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট,১২টি টেটা বল্লম,২০০টি ককটেল তৈরির মারবেল,১টি রামদা, ১টি দা ও ১টি কাঠের হাতলযুক্ত দা,৪টি হাতলযুক্ত লোহার রড,২টি এসএস স্কয়ার বাট ও ১টি ঢাল।
দ্বিতীয় অভিযান (সদাগরকান্দি কবরস্থান সংলগ্ন): একই এলাকার কবরস্থানের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
১টি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান (এলজি) বন্দুক, ২ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ,৭টি টেটা বল্লম,২টি হাতলযুক্ত দা ও ২টি হাতলযুক্ত লোহার রড,১টি হাতলযুক্ত স্টেইনলেস চাকু,১৪টি পটকা।
[caption id="attachment_4858" align="aligncenter" width="300"]
ছবি সংগৃহীত[/caption]
পূর্ববিরোধ ও বর্তমান পরিস্থিতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদাগরকান্দি গ্রামের পূর্বপাড়া ও সরকারবাড়ির লোকজনের মধ্যে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরে অতীতেও বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে চরাঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি ও টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে।
উক্ত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।