মোঃ মাসুদ মিয়া, নিজস্ব প্রতিনিধি:
নরসিংদী:নির্মাণ সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘মেগা ফিক্স কনস্ট্রাকশন এডমিক্সচার কোম্পানি লিমিটেড’ (Mega Fix Construction Admixture Company Limited)-এর অভ্যন্তরে প্রায় ১১ লক্ষ টাকার আর্থিক গড়মিল নিয়ে চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি)-এর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও মুখোমুখি অবস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান। অন্যদিকে এমডি দাবি করেছেন, যৌথ সভার মাধ্যমে হিসাবের খাতা মেলালেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।চেয়ারম্যানের অভিযোগ: নোটিশ উপেক্ষা ও থানায় লিখিত অভিযোগকোম্পানির চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ জানান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর জোনায়েদ আহমেদ অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকাকালীন কোম্পানির বিভিন্ন খাতের হিসাবে আনুমানিক ১১ লক্ষ টাকার গড়মিল ও অসঙ্গতি দেখা দেয়। এই আর্থিক অনিয়মের সুষ্ঠু ব্যাখ্যা চেয়ে কোম্পানির অফিসিয়াল প্যাডে এমডি জোনায়েদ আহমেদকে পরপর তিনটি কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠানো হয়।চেয়ারম্যানের দাবি, বারবার নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও এমডির পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক সমাধান বা সাড়া পাওয়া যায়নি।
ফলে নিরুপায় হয়ে তিনি বিষয়টি সরকারি বিভিন্ন দাপ্তরিক বিভাগে লিখিতভাবে অবহিত করেন। এর অংশ হিসেবে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), নরসিংদী জেলা প্রশাসক (ডিসি), এবং নরসিংদী পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সর্বশেষ এই আর্থিক জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট প্রতিকার চেয়ে নরসিংদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান, যেন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের সঠিক তথ্য বের করে আনা হয়।এমডির পাল্টা দাবি: হিসাবের খাতা অফিসেই আছে, দরকার যৌথ বসাঅভিযোগের বিষয়ে মেগা ফিক্স কনস্ট্রাকশন এডমিক্সচার কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর জোনায়েদ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা টাকা লুটপাট বা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।পাল্টা যুক্তিতে জোনায়েদ আহমেদ জানান, কোম্পানিতে যত টাকা লেনদেন হয়েছে, তার সমস্ত হিসাব অফিসের নির্ধারিত অফিশিয়াল রেজিস্ট্রার খাতায় নিয়মিত লিখে রাখা হতো। সেই হিসাবের মূল খাতাটি এখনো কোম্পানির অফিসেই সংরক্ষিত রয়েছে। চেয়ারম্যানের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, "আমি সমাধানের জন্য বসতে চাইনি—এই দাবি সত্য নয়। বরং আমি নিজেই নোটিশ পাঠিয়ে সমাধানের আগ্রহের কথা জানিয়েছি।"এমডি জোনায়েদ আরও জানান, কোম্পানির চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ, তিনি নিজে (এমডি) এবং অপর পরিচালক নাদিম—এই তিন পক্ষ একসাথে বসে যদি সেই অফিসিয়াল রেজিস্ট্রার খাতাটি যাচাই করেন, তবে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে এই সংকটের অবসান ঘটবে। তিনিও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমেই এই ঘটনার পেছনের আসল রহস্য এবং সত্যতা উন্মোচিত হবে।অনুসন্ধানের অপেক্ষায় স্থানীয় সচেতন মহলএকটি উদীয়মান কনস্ট্রাকশন কেমিক্যাল কোম্পানির ভেতরে এমন বড় অঙ্কের আর্থিক বিরোধের খবরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
একদিকে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের কাছে চেয়ারম্যানের আইনি লড়াই, অন্যদিকে এমডির খাতা মিলিয়ে টেবিল টকের আহ্বান—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন তদন্ত কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রয়েছে। সাংবাদিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তেই স্পষ্ট হবে আসলেই কোনো লুটপাট হয়েছে, নাকি এটি অভ্যন্তরীণ হিসাবের ভুল বোঝাবুঝি।