
খলিলুর রহমান রানা
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রভাবে পেশাগত সাংবাদিকতার মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাই পরিচয়ের স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি।
কারণ, প্রেস কার্ড থাকলেই কেউ সাংবাদিক হন না; সাংবাদিকতার পরিচয় গড়ে ওঠে দায়িত্বশীলতা, সত্যনিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত নৈতিকতার ওপর।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবংভুয়া সাংবাদিক দাপটে আজ সাংবাদিকতা পেশাটি প্রশ্নবিদ্ধ।
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য মানুষের কাছে তুলে ধরা, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ করা এবং সমাজের অসংগতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাই সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব। কিন্তু কিছু ভুয়া, অদক্ষ ও পেশার পরিচয় ব্যবহারকারী ব্যক্তির কারণে আজ প্রকৃত সাংবাদিকদেরও নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কিছু ব্যক্তি নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ কিংবা ইউটিউব চ্যানেলের পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের সাংবাদিক দাবি করছেন।
অনেকের নেই কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা, নেই সাংবাদিকতার ন্যূনতম প্রশিক্ষণ বা পেশাগত নীতিবোধ। অথচ তারা সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে প্রভাব বিস্তার, তদবির কিংবা নানা ধরনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—এ ধরনের অপেশাদার কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। ফলে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রকৃত সাংবাদিকদেরও কখনো কখনো বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
সাংবাদিকতার পরিচয় কোনো ক্ষমতার প্রতীক নয়; এটি একটি দায়িত্ব। সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, নিরপেক্ষতা, সত্যনিষ্ঠা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া একজন প্রকৃত সাংবাদিকের মৌলিক দায়িত্ব।
ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও নিজেদের পেশাগত পরিচয় ও নৈতিক মানদণ্ড রক্ষায় আরও সচেতন হতে হবে।
কারণ, কয়েকজন ভুয়া সাংবাদিকের অপকর্ম যেন হাজারো সৎ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকের পেশাগত মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে। সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন পরিচয়ের নয়—যোগ্যতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও সত্যের প্রতি অঙ্গীকার।