নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আব্দুল্লাহ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সময়সূচি উপেক্ষা, অনিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার গুরুতর
অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ পাঠদান নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় পাঠদান শুরুর কথা থাকলেও প্রায়ই সকাল সাড়ে ৯টার পর বিদ্যালয় খোলা হয়। একইভাবে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে ছুটির নিয়ম থাকলেও ৩টা ৪৫ মিনিটের মধ্যেই বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সারাদিনে গড়ে মাত্র দুই থেকে তিনটি ক্লাস নেওয়ার পর পুরো শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে বলে জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "বিদ্যালয় আমার, স্বাধীনতাও আমার। আপনারা সাংবাদিকরা লেখেন, এতে আমার কিছু যায় আসে না।" নিজ সন্তানদের স্কুলে নিয়ে এসে ক্লাস বিঘ্নিত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "আমার দুটি বাচ্চা, আমি কি তাদের এতিমখানায় রেখে আসবো?" শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার নিজ সন্তানদের খাওয়ানোর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "আমি স্কুলের শিক্ষক, আমার বাচ্চারা খেতেই পারে—এটাই স্বাভাবিক। আপনি পারলে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করেন, উনি নিষেধ করলে আমি আর বাচ্চা নিয়ে স্কুলে আসবো না এবং তাদের কোনো খাবার খেতে দেব না।
সহকারী শিক্ষক জেসমিন আক্তারের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, "স্কুলে আসতে ১০-২০ মিনিট দেরি হতেই পারে, এটা দোষের কিছু নয়।
[caption id="attachment_5317" align="aligncenter" width="270"]
ছবি: সহকারী শিক্ষক জেসমিন আক্তার।[/caption]
তবে আধা ঘণ্টা আগে স্কুল ছুটি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমাদের বাসায় একটু কাজ ছিল, এ জন্য আমরা আধা ঘণ্টা আগে স্কুল ছুটি দিয়ে দিয়েছি।" সবকিছু উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়ে করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের আশপাশের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অনিয়ম বেড়েছে। স্থানীয় কাদের মিয়া নামের এক ব্যক্তি বলেন, "তারা মনগড়ামতো স্কুলে আসে এবং মনগড়ামতো চলে যায়। ১০টা-সাড়ে ১০টায় এসে এক-দুটি ক্লাস নিয়ে তারা ক্লাসরুমে বসে আড্ডা দেন।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই নিয়মিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে শিক্ষকরা চলে যান। এমনকি একজন সহকারি শিক্ষক জেসমিন আক্তার ক্লাসের হাই বেঞ্চে বসে মোবাইল ফোনে খোষ গল্প করার ভিডিও মেঘনা টেলিভিশনের হাতে এসে পৌঁছেছে, এতে দেখা যায় ঐ শিক্ষক হাই বেঞ্চে বসে ক্লাসে মনোযোগ না দিয়ে কার সাথে জানি কথা বলছে আর মুচকি মুচকি হাসছে।
[video width="1088" height="1472" mp4="https://meghenatv.com/wp-content/uploads/2026/10/YouCut_20261011_200018029.mp4"][/video]
সার্বিক বিষয়ে বেলাবো উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার রেজা ই রাব্বির সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আব্দুল্লাহ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।