সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কমিশন গঠন হচ্ছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

মেঘনা টিভি নিউজ ডেস্ক:
দেশব্যাপী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের অমানবিক নির্যাতন, নিপীড়ন ও হামলার ঘটনায় গণতদন্ত কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

একই সঙ্গে গত ১৬ বছর ধরে ছাত্রলীগের নৈরাজ্য, হামলা, নির্যাতন-নিপীড়নে যারা যুক্ত ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগের হামলা, নির্যাতন ও গণতদন্ত কমিশন গঠন শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে হাসনাত বলেন, গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের পোষ্য গুন্ডা বাহিনী ছাত্রলীগ দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ছাত্রলীগ বিরোধীমতের শিক্ষার্থীদের ওপর নগ্ন হামলা, নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়েছে। এমনকি ছাত্রদল, ছাত্রশিবির কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের ওপরও অমানুষিক নির্যাতন করেছে তারা।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পুরোটা সময় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগ ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের বিভিন্নভাবে বাধা দিয়েছে।হাসনাত বলেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে রক্তাক্ত করেছে ছাত্রলীগ। নারী শিক্ষার্থীরাও ছাত্রলীগের নৃশংসতা থেকে এই দিন রেহাই পায়নি। ঢাকা মেডিকেলকে মনে হচ্ছিল কোনো যুদ্ধের আহত ক্যাম্প। এই নরপশুরা সেদিন ঢাকা মেডিকেলের ভেতর চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও হামলা করেছিল।

তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবে ক্যাম্পাসগুলোতে হামলাকারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে আগামীকাল গণতদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। জুলাই বিপ্লবের আগেও গত ১৬ বছর ধরে ছাত্রলীগের যারা নানাসময়ে নৈরাজ্য, হামলা, নির্যাতন-নিপীড়নে যুক্ত ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করতে হবে।গণতদন্ত কমিটি গঠন করে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে ছাত্রলীগের হামলাকারী ও নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবে। এটাই জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি। এই দাবিতে কালক্ষেপণের সুযোগ নেই। কালক্ষেপণ করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের সুযোগ করে দিলে শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


https://www.facebook.com/profile.php?id=100089135320224&mibextid=ZbWKwL