সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শ্রীবরদীতে ঘোষ ছাড়া সেবা মিলছে না সাব রেজিস্ট্রী অফিসে রায়পুরায় দিনদুপুরে ২ ভাইকে কুপিয়ে হত্যা পিরোজপুরে রূপালী ব্যাংকের ‘তারুণ্যের উৎসব’ উপলক্ষে গ্রাহক সেবা পক্ষ উদযাপন পিরোজপুরে তাহসিন শিক্ষা পরিবারের আয়োজনে সবক প্রদান ও অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে স্বল্প বরাদ্দের প্রতিবাদ ও লুটপাটকারীদের বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনে ধানের শীষের বিজয় ধরে রাখতে ঐক্যবন্ধভাবে কাজ করবো- জামাল আহমেদ নরসিংদী সদর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ধর্ষণের মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও অপ-প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ঢাকার সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত নরসিংদীতে পেট্রোল ঢেলে স্ত্রী-সন্তানের গায়ে আগুন, দগ্ধ ৫

রায়পুরায় উপজেলা ডাকঘর পোস্টাল অপারেটর জাহাঙ্গীররে উপর বর্বরোচিত হামলা

ছবি: মেঘনা টেলিভিশন

রায়পুরা(নরসিংদী) প্রতিনিধিঃ

আসামীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা ডাকঘরের পোস্টাল অপারেটর জাহাঙ্গীর আলম দুলাল (৪৫) এর উপর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আবিদ হাসান রুবেল ও তার বাহিনী বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগি পরিবারের লোকজন।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মেথিকান্দাস্থ ভুক্তভোগির বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা ডাকঘর পোস্টাল অপারেটর জাহাঙ্গীর আলমের বড় ভাই বাছেদ মেম্বার। এসময় তার অপর চার ভাই উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন,বড় ভাই নূর মোহাম্মদ মাস্টার, ছোট শাহজাহান ভূঁইয়া, মো. রোকনুজ্জামান ভূঁইয়া ও রউফ ভূঁইয়া।

লিখিত বক্তব্যে বাছেদ মেম্বার বলেন, গত ১৭ অক্টোবর বিকেল ৪ টার দিকে আমার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম তার কর্মস্থল রাযপুরা পোস্ট অফিস থেকে বাহির হয়ে চা খেতে বের হন।

তিনি বাজারে সড়কে উঠলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একটি হাইস মাইক্রোবাসে উৎপেতে থাকা আবিদ হাসান রুবেল (৩৫) এবং তার ভাই রেজাউল করিম টুটুলের নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৪ জন সন্ত্রাসী গাড়ী থেকে নেমে পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে জোড়পূর্বক মাইক্রোতে তুলে নেন।

পরে তাকে শ্রীরামপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফজাল হোসেনের বাড়ির পিছনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন শেষে আফজাল হোসাইন ও হজরত আলী হরজু নির্দেশে তাকে প্রথমে কুপিয়ে গ্রেন্ডিং মেশিন দিয়ে তার ডান পায়ের গোড়ালির উপর থেকে কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আর বাম পা হাঁটুর নিচ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

পাশাপাশি ডান হাত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। পরে নির্দেশ দাতা আফজাল হোসেন ও হরজু কাজ শেষ যেকোনো সময় পুলিশ চলে আসতে পারে বলে বলে সেখান থেকে চলে যায়।

তারা যাওয়ার সময় জাহাঙ্গীর আলমের পকেট থেকে নগদ ৭ হাজার টাকা redmi অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল যার মূল্য ২৩ হাজার টাকা একটি বাটন মোবাইল যার মূল্য ২২০০ টাকা নিয়ে যায়।

এদিকে খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর কে এ অবস্থায় তার বাড়ির লোকজন এসে উদ্ধার করে স্থানীয় রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকায় প্রেরণ করে।

বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে পাশাপাশি সারা জীবনের পঙ্গুত্ববরণ করেছে। জাহাঙ্গীরের উপর বর্বর রচিত এই হামলার ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফজাল হোসাইন, আবিদ হাসান রুবেল তার বাবা হযরত আলী ফরজু ও বড় ভাই টুটুল সহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ আরো দুই তিন জনকে অজ্ঞাত দিয়ে গত ২২ অক্টোবর রায়পুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ১৮/২৪৫ তারিখ ২২-১০-২০২৪ইং।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, রায়পুরা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পিতামৃত আক্রব আলী কেরানীর ছেলে আফজাল হোসাইন (৭২), মৃত সামসুল হকের ছেলে হযরত আলী হরজু, তার ছেলে আবিদ হাসান রুবেল (৩৫) ও রেজাউল করিম টুটুল (৩৮), মোহাম্মদ আলী ছেলে জুয়েল (৩০), মৃত সামসুল হকের ছেলে মানিক মিয়া (৫০), খলিল মিয়ার সাকিব (২০) আবিদ হাসান রুবেলের ছেলে আরিয়ান (১৮), মৃত বজলু মিয়ার ছেলে রাসেল (৩৫), মৃত দারু মিয়ার ছেলে এনামুল হক (৩২), জয়নালের ছেলে জামাল (৪০), মানিক মিয়ার ছেলে কাউছার (২৩), লিটন মিয়ার ছেলে নাসির (২২), মৃত বজলু মিয়ার ছেলে শাামিম (৩২) সহ আরও ২/৩ জন সবাই উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের নজরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় এজাহার ভুক্ত আসামিরা তাদের খেয়াল খুশি মত রায়পুরায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছে যখন যাকে ইচ্ছে ধরে এনে মারধর সহ হাত পা কেটে মনমত ঘটনা ঘটাচ্ছে।

১৬ অক্টোবর বিকালে উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের খাকচক গ্রামের দিনমুজুর কাজলের ছেলে শাওন মিয়া বিভাটেক চালক তাকে ভাড়ার কথা বলে বাড়িতে নিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে টাকা পয়সা ও বিভাটেক গাড়ি রেখে তাকে অন্যত্র ফেলে দিয়ে যায় বর্তমানে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শুধু তাই নয় যেদিন জাহাঙ্গীর আলম এর উপর বর্ববো রচিত হামলা চালানো হয় সেদিনই রুবেলের বাড়ির দক্ষিণে উপজেলার পূর্বহরিপুর গ্রামের শফিউল্লাহ নামে এক প্রকৌশলীকে গুলি করে হত্যা করে এই বাহিনী সদস্যরা।

কিন্তু কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতার বলে এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কোন সদস্যকে এ হত্যা মামলায় না জড়িয়ে একটি নিরীহ পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে শফিউল্লাহর পিতা।

কিন্তু কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতার বলে এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কোন সদস্যকে এ হত্যা মামলায় না জড়িয়ে একটি নিরীহ পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে শফিউল্লাহর পিতা।

ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলমের অপর ভাই শাহজাহান ভূঁইয়া জানান, এই রুবেল বাহিনী  আমার ভাইকে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু করে দিয়েছে। শুধু তাই নয় এই ঘটনার পর  আমার বাকি তিন ভাই রয়েছি, আমাদের কে  জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।এর আগে আমাদের পরিবারের আমার ভাতিজা মোমেন,  মারুফ,  শরিফুল, আরেক ভাতিজা  মনিরুজ্জামান সহ বেশ কয়েকজনকে গুলি করে আহত করেছে অনেক লোককেই করেছে পঙ্গু।

আর এসব ঘটনায় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে এর জেরে গত ১৩ আগস্ট রায়পুরা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি দৈনিক রূপান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি  সাংবাদিক মনিরুজ্জামান কে গুলি করে আহত করে। সেও বর্তমানে পঙ্গু অবস্থায় দিন যাপন করছে। সাংবাদিক মনির আহত হওয়ার পরে দেশের প্রায় সকল পত্র পত্রিকা টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সংবাদ প্রকাশ করতে পারে না হুমকি ও ভয় দেখায়। কোন এক অদৃশ্য শক্তির বলে আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে রায়পুরার এই চিহ্নিত সন্ত্রাসী  রুবেল ও তার বাহিনী। একের পর এক ঘটনা ঘটাতে থাকলেও পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারছে না।

আমরা এ ব্যাপারে চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী ভূমিদস্যু আবিদ হাসান রুবেল ও তার বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার তরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

জাহাঙ্গীর আলম এর উপর হামলার দিন নজরপুরে গুলিতে নিহত হওয়া শফিউল্লাহ হত্যা মামলার বাদী আলী আকবর এর মোবাইলে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তিনি আর ফোন রিসিভ করেনি

এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল জব্বার বলেন এ বাহিনীর সদস্যদেরকে গ্রেপ্তার করতে কেবল  আমরাই নই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য বাহিনীগুলো তৎপর রয়েছে।

আশা করছি খুব শিগগিরই তারা আইনের আওতায় আসবে। শফিউল্লাহ হত্যার পর  ঘটনাস্থল থেকে আমরা মরদেহ উদ্ধার করি। এরপর থেকে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করেছি মামলা করার কথা বলিছি  কিন্তু তারা থানায় এসে মামলা না করে, কেন কার প্ররোচনায় আদালতে মামলা করেছে সেটা আমার জানার কথা নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


https://www.facebook.com/profile.php?id=100089135320224&mibextid=ZbWKwL