সুমন ঘোষ যশোর প্রতিনিধি।
অতিরিক্ত বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষক
যশোরের মাঠজুড়ে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন। সোনালি ধানে ভরে উঠেছে জেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। কৃষকের মুখে থাকার কথা ছিল হাসি, কিন্তু বাস্তবতা যেন ঠিক উল্টো।
অতিরিক্ত বৃষ্টি, কালবৈশাখীর শঙ্কা ও তীব্র শ্রমিক সংকটে এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ধান পেকে গেলেও সময়মতো কাটতে পারছেন না অনেক কৃষক। শ্রমিকের অভাবে ধান কাটার কাজ ধীরগতিতে চলছে। আবার যারা শ্রমিক পাচ্ছেন, তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি মজুরি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার কাজের জন্য একজন শ্রমিককে দিতে হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও লাভ নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরেই আকাশে মেঘ আর হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক এলাকায় নিচু জমিতে পানি জমে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা সকাল ও বিকেলের স্বল্প সময় কাজে লাগিয়ে দ্রুত ধান ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।
যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, “একদিকে শ্রমিক নেই, অন্যদিকে বৃষ্টি। এখন ধান কাটতে না পারলে সব শেষ হয়ে যাবে।”
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর যশোরে বোরো ধানের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শ্রমিক সংকটের কারণে সেই সাফল্য অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের সহায়তায় হারভেস্টার মেশিন বাড়ানোর দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এদিকে ভবদহ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদই করা সম্ভব হয়নি। এতে অনেক কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কৃষকদের আশঙ্কা, আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে মাঠের সোনালি স্বপ্ন পানিতেই ভেসে যেতে পারে।