শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নৌ প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনঅফিসে অনুপস্থিত ১৬ জনকে স্ট্যান্ড রিলিজ ড. আবদুল মঈন খানের মন্ত্রী হওয়ার খবরে নরসিংদীতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর্থিক গড়মিল নিয়ে মেগা ফিক্স কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান ও এমডির মুখোমুখি অবস্থান: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি রায়পুরায় যুবদল নেতা রাসেল ও ছাত্রদল নেতা আমুর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও শাস্তির দাবি” রায়পুরার চরাঞ্চল চাঁনপুর ও বাঁশগাড়ীতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান: অস্ত্র, ককটেল ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার রায়পুরার আমীরগঞ্জ ইউনিয়নে কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত: মাদক, বাল্যবিবাহ ও অপরাধ প্রতিরোধের আহ্বান রাজস্ব নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী শতভাগ জিপিএ-৫: নাসিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুলকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শোকজ রায়পুরায় জাতীয় মৎস্য দিবস অনুষ্ঠিত পক্ষ-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে চলার অভিযোগ কুমিল্লার ডিসির বিরুদ্ধে

ড. আবদুল মঈন খানের মন্ত্রী হওয়ার খবরে নরসিংদীতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস

রুবি আঞ্জুম, নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের ৫ বারের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার খবরে তাঁর নির্বাচনী এলাকা নরসিংদী -২ (পলাশ) সহ পুরো নরসিংদী জেলাজুড়ে বইছে আনন্দ উচ্ছ্বাস। শুক্রবার (২১ আগস্ট) মন্ত্রী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দেয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
এর আগে মঈন খান একাধিবার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।শুক্রবার নবনিযুক্ত সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই পলাশ তথা নরসিংদী এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দেয়। এসময় স্থানীয় নেতাকর্মীরা আনন্দে মিষ্টি মুখ করেন।
এলাকাবাসী জানান, ড. আবদুল মঈন খান একজন অভিজ্ঞ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক। এর আগেও তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর হাত ধরে পলাশ তথা নরসিংদীর ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষা-প্রযুক্তির অগ্রগতি হয়েছিল। পুনরায় তিনি নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ায় এই অঞ্চলসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ।
পলাশ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল বলেন, ড. আবদুল মঈন খান মন্ত্রী হওয়াতে পলাশবাসীর আশার প্রতিফলন ঘটেছে। ওনার মতো একজন সুদক্ষ, সৎ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মানুষের হাতেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নিরাপদ। ওনার হাত ধরে এ দেশের সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব।
ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলম মোল্লা বলেন, মঈন খানের মতো একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ এর হাতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যাওয়া মানে নরসিংদী সহ সারাদেশের রাস্তাঘাট ও জীবনমানের উন্নয়ন হবে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে তিনবার মন্ত্রী ছিলেন। এবারসহ ৫ বারের এমপি ও চতুর্থ বারের মতো মন্ত্রীর দায়িত্বের তৌফিক হওয়ায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। মঈন খান বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যেমন রাজপথের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে সকল আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। ঠিক একইভাবে বর্তমান বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছায়াসঙ্গী হয়ে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলবেন বলে বিশ্বাস করি।
নরসিংদী আন্ত:জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সারোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, মঈন খান স্যার মন্ত্রী হওয়ার খবর নরসিংদীবাসীর জন্য নি:সন্দেহে একটা আনন্দের খবর। সৃষ্টিকর্তা যেন সুস্থ রেখে সুনাম ও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালনের তৌফিক দেন।
পলাশ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান পাপন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমার জীবনে আর চাওয়ার কিছু নেই। শুধু বলবো সৃষ্টিকর্তা যেন ড. আবদুল মঈন খান স্যারকে দীর্ঘজীবী করেন ও সুস্থ রাখেন। আজকে জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া পূরণ হয়েছে। আমাদের একটাই স্বপ্ন ছিল মঈন খান স্যারকে এমন একটি আসনে বসতে দেখার।

উল্লেখ্য, ড. আব্দুল মঈন খান একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য। ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি তিনি জন্ম গ্রহণ করেন।
তিনি নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স (University of Sussex) থেকে ১৯৭৩ সালে পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতিতে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হওয়ার পূর্বে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
তিনি নরসিংদী-২ (পলাশ) আসন থেকে একাধিকবার (১৯৯১, ১৯৯৬, মধ্যবর্তী, ২০০১ ও ২০২৫) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।তিনি মন্ত্রী হিসেবে ১৯৯৩–১৯৯৬ সালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, ২০০১–২০০২ তথ্যমন্ত্রী, ২০০২–২০০৬ বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী কমিটি অর্থাৎ স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন।
তাঁর বাবা আব্দুল মোমেন খান ছিলেন বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী। মোমেন খানও নরসিংদীর সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


https://www.facebook.com/profile.php?id=100089135320224&mibextid=ZbWKwL