সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

বেক্সিমকোর অস্তিত্বহীন ১৬ প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ ১২ হাজার কোটি টাকা

মেঘনা ডেস্ক:
বেক্সিমকোর বন্ধ কারখানা চালু হচ্ছে না

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে মোট ৩২টি ফ্যাক্টরির মধ্যে ১৬টির কোনো অস্তিত্ব নেই। এই অস্তিত্বহীন ১৬ কোম্পানির নামে ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রম ও ব্যবসায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন এতথ্য জানান। 

শ্রমিকদের দাবিগুলো ‘অত্যন্ত অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে বেক্সিমকো গ্রুপের বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। এসময় উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা বলেন, বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অবস্থিত ৩২টি ফ্যাক্টরির বিপরীতে ২৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকাসহ বেক্সিমকো লিমিটেডের মোট ব্যাংক ঋণ বর্তমানে ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে শুধু জনতা ব্যাংকের পাওনা ২৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। 

উপদেষ্টা বলেন, গত ২১ জানুয়ারি বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিক-কর্মচারীরা গাজীপুরের শ্রীপুর মায়ানগর মাঠে জমায়েত হয়ে লে-অফ প্রত্যাহার করে ফ্যাক্টরিসমূহ খুলে দেওয়ার দাবি জানান। তারা ঘোষণা দেন, ২২ জানুয়ারি বিকেল ৩টার মধ্যে ফ্যাক্টরি খুলে না দিলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধসহ শাটডাউন কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। 

তিনি বলেন, বেক্সিমকোর কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও দেশবাসীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে মোট ৩২টি ফ্যাক্টরির মধ্যে ১৬টির কোনো অস্তিত্ব নেই, কিন্তু এই ১৬ কোম্পানির বিপরীতে ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। ১২টি ফ্যাক্টরি ম্যানেজমেন্ট কর্তৃক লে-অফ করা হয়েছে, যা সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নয়। তিনটি ফ্যাক্টরি বর্তমানে চলমান। 

শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা বলেন, মালিকরা এ অর্থ কোথায় নিয়ে গেছেন তা আমরা এখন বলতে পারবো না। কিন্তু এই টাকা মনে হয় দেশের মধ্যে নেই। থাকলে হয়ত আমরা জানতে পারতাম। এটা কিন্তু জনগণের টাকা। আগামী ২৮ জানুয়ারি দায়-দেনা নিয়ে পর্যালোচনা হবে জানিয়ে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনার বিষয়ে সর্বদাই সজাগ। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে উপদেষ্টা কমিটি সর্বোচ্চ সোচ্চার। 

তিনি আরও বলেন, বেশ কিছু দিন আমরা একটা শান্ত পরিবেশে ছিলাম। বুধবার হঠাৎ তারা সমাবেশ করে বলেছে তাদের তিনটা দাবি। দাবিগুলো আমার মনে হয় কোনো সরকারের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। অত্যন্ত অযৌক্তিক এসব দাবি। তারপরও তারা বলেছে মানববন্ধন করবে রাস্তাঘাট বন্ধ করবে। তারা করেছেও, আমরা কিছু বলিনি। পুলিশ মোতায়েন ছিল, আর্মি মোতায়েন ছিল, তারাও তাদের বাধা দেয়নি। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করেছিলাম তাদের নেতা যারা আছেন তারা অত্যন্ত রেসপনসিবল। মনে করেছি এবং এখনো মনে করি তারা রেসপনসিবল হিসেবে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরবে। তাতে কোনো আপত্তি নেই।  

ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত বলেন, ১০০টির বেশি বাস জ্বালানো হয়েছে, বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়েছে। এটি করার কথা ছিল না। এটি কখনো হয়নি। হঠাৎ করে এটি কেন হলো, তা আমরা খতিয়ে বের করবো।  তিনি বলেন, এটি করে তারা সম্পূর্ণভাবে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। শ্রমিকদের যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা টোটালি ফলস কাজ করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


https://www.facebook.com/profile.php?id=100089135320224&mibextid=ZbWKwL