কামরুল ইসলাম নিজস্ব প্রতিবেদক।।
নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের নবনির্বাচিত এমপি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল প্রশাসনের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভা করেছেন। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় রায়পুরা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদ রানা।
বিজ্ঞাপন
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হলে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ফুলেল শুভেচ্ছায় নবনির্বাচিত এমপিকে বরণ করে নেন। পরে রায়পুরা পৌরসভা এলাকায় নিরীহ চালকদের কাছ থেকে টোল আদায় কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ায় টেম্পু, সিএনজি ও অটোরিকশা চালকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ এমপি বকুলকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে ঘিরে ব্যাপক প্রশংসা দেখা যায়।
বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে স্বাগত জানান। প্রশাসন ও এলাকাবাসীর ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে এমপি বকুল বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। এখন আমার প্রথম দায়িত্ব এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। রায়পুরা উপজেলাবাসীর উন্নয়নই আমার একমাত্র মূল লক্ষ্য।”
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে রায়পুরাসহ সারা দেশ থেকে দুর্নীতি ও অনিয়ম নির্মূলের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জুয়া ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথাও জানান তিনি।
তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
এমপি বকুল রায়পুরার সার্বিক উন্নয়নে কয়েকটি বৃহৎ প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, রায়পুরা পান্থশালা এলাকায় মেঘনা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ এবং ছয় লেনবিশিষ্ট সড়ক তৈরি করে রায়পুরা থেকে নবীনগর হয়ে কুমিল্লার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম থেকে আসা কন্টেইনারবাহী পরিবহন ঢাকাকে পাশ কাটিয়ে স্বল্প সময়ে ও কম খরচে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুর্গম চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকায় রিসোর্ট গড়ে তোলা এবং খালি জমিতে শিল্পপ্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে রায়পুরাকে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব হ্রাস পাবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে অপরাধপ্রবণতা কমবে বলে মত দেন এমপি বকুল।
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে উন্নয়নবঞ্চিত হয়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাতের কারণে রায়পুরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে বিভেদ নয়, ঐক্য ও উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হবে। বিগত দিনের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না; যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফাইজুর রহমান, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হযরত আলী ভুইয়া, জেলা বিএনপির শিশুবিষয়ক সম্পাদক হাজী আব্দুর রহমান খোকন, জেলা বিএনপির সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও রায়পুরা পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব আ. কুদ্দুস মিয়া, জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক ভুইয়া মোহন, রায়পুরা পৌর বিএনপির সভাপতি ইদ্রিছ আলী মুন্সি ও সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম পলাশ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, রায়পুরা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলফাজ উদ্দিন মিঠু ও সদস্যসচিব নুর আহমদ চৌধুরী মানিক, পৌরসভা যুবদলের সভাপতি সোহেল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক সুমন নেওয়াজসহ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত এমপি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের নেতৃত্বে রায়পুরায় ব্যাপক উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ রায়পুরা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।