কাজী বাবলা, পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনায় বেগুনের (সবজি) বাম্পার ফলন ও কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় হাঁসি ফুটেছে চাষীদের মুখে। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে পাবনা জেলায় ১৬৪০ হেক্টর জমিতে বেগুন আবাদ হয়েছে। এবছর সাদা ডোপা ও বারি-১২ জাতের বেগুন চাষে সফল হয়েছেন কৃষক। জেলার বিভিন্ন হাঁট-বাজারে উৎপাদিত এসব বেগুন ১৬০০-১৮০০ টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রয় হচ্ছে। বেগুনের কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন চাষীরা। স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী জেলার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর ইউনিয়ন, আটঘরিয়া উপজেলার ছাতিয়ানী ও জগন্নাথপুর এলাকা, ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুরিয়া এলাকা, পাবনা সদর ও চাটমোহর উপজেলার কিছু স্থানে এবছর সাদা ডোপা ও বারি -১২ জাতের বেগুন চাষে সফলতা পাচ্ছে কৃষক। ২০২৫-২৬ মৌসুমে পাবনায় ১৬৪০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে। উৎপাদিত এসব বেগুন ১৬০০-১৮০০ টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রয় হচ্ছে জেলার বিভিন্ন হাঁট-বাজারে। বেগুনের ভাল দাম পাওয়ায় কৃষক এবার খুশি।
জেলার অন্যয় এলাকায় বেগুন আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
সাঁথিয়া উপজেলার করিয়াল এলাকার বেগুন চাষী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবছর পোনে দুই বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে, বাজারে যথেষ্ট দাম পাচ্ছি। এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ টাকার বেগুন বিক্রি করেছি, আশা করছি আরও ২-৩ লক্ষ টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারবো। তবে কীটনাশকের দাম অনেক বেশি হওয়ায় প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়ে গেছে।
বড়গ্রাম এলাকার বেগুন চাষী ইউসুফ জানান, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। এবছর দামও ভালো পাচ্ছি। ইনশাল্লাহ সকল খরচ বাদ দিয়ে ৪-৫ লক্ষ টাকা লাভ থাকবে।
আটঘরিয়া উপজেলার ছাতিয়ানী এলাকার বেগুন চাষী হাসান বলেন, এবছর বেগুনের দাম ভালো পেয়েছি। আশা করছি পেঁয়াজের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবো।
পাইকরহাটী পূর্ব পাড়ার বেগুন চাষী রনি বলেন, ২৫ শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করেছিলাম। আমার বেগুনের ক্ষেতে পোকার উপদ্রব হয়েছিল। কীটনাশক কোম্পানির লোকদের পরামর্শে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক দিলেও কোন ফল পাইনি। বাধ্য হয়ে অনেক বেগুন গাছ কেটে ফেলেছি। তার পরও যে বেগুন পেয়েছি তাতে আমি খুশি। তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শ মূলক সহযোগিতা না পাওয়া ও মানহীন কীটনাশক কোম্পানির পরামর্শে অনুন্নত কীটনাশক ব্যবহারে অনেক বেগুন চাষী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলে দাবী করেন।
বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্থ বেগুন চাষী দাবি করেন, কোন কৃষি কর্মকর্তা তাদের খোঁজ খবর না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন কীটনাশক কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের পরামর্শ শুনতে হয়। এতে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করে বেগুনের পোকা ধ্বংস হওয়ার পরিবর্তে ক্ষেত নষ্ট হয়েছে।
এবছর বেগুন চাষে বেশিরভাগ কৃষক লাভবান হলেও জমিতে পানি জমে গাছ মরে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় ও পোকার উপদ্রবে লোকসানের ঝুঁকিতে রয়েছেন কাশিনাথপুর ইউনিয়নাধীন করিয়াল ও শহিদনগর এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষক। লোকসান এড়াতে সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নিকট পরামর্শ ও প্রণোদনামুলক সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
এব্যাপারে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, এবার জেলায় বেগুনের আাবাদ ও ফলন ভাল হয়েছে। কাক্সিক্ষত দাম পাওয়ায় বেগুন চাষীরাও সন্তুষ্ট। যেসকল এলাকার বেগুন চাষীরা বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে অতিদ্রুত তথ্যপ্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে সকল উপজেলা কৃষি অফিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকের পাশে আছে এবং থাকবে।