খলিলুর রহমান রানা।
নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মোমেন মিয়া (৫২) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের সওদাগরকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোমেন মিয়া ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মৃত ধন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সরকার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ফরিদ উদ্দিনের অনুসারীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রায় ১৮ দিন আগে উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। তবে ওই সালিশে অসন্তুষ্ট ছিলেন ফরিদ উদ্দিন ও তার অনুসারীরা বলে অভিযোগ রয়েছে।রবিবার সকালে ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দা, চাপাতি, বল্লম, ছুরি ও লাঠিসোটা নিয়ে সরকার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলা প্রতিরোধে মোমেন মিয়াসহ তার লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা গুলি ছোড়ে। এতে মোমেন মিয়াসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন এবং মোট ১১ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোমেন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলিবিদ্ধ অপর তিনজন নরসিংদী জেলা হাসপাতাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের ভাতিজা আনিসুজ্জামান অভিযোগ করেন, ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে ইমান আলী, জামাল মিয়া, সোহেল, কাশেম মেম্বার, লিয়াকত আলী, শাহাজান মিয়া, মৌলা মিয়া ও সুবজ মিয়াসহ ৩০ থেকে ৪০ জন তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় সোনার গহনাসহ মূল্যবান মালামাল লুটপাট করা হয়।
বাধা দিতে গেলে মোমেন মিয়াকে গুলি করা হয়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে লাঠিসোটা ও রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মোমেন মিয়ার মাথায় গুলি করেন সোহেল এবং উরুতে (রানে) গুলি করেন ইমান আলী। ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বেই এ হামলা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মিনিতা দাস বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মোমেন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। তার মাথা ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদ উদ্দিন বাংলাদেশ স্কাউটস, নোয়াখালী জেলার সহকারী পরিচালক।তবে মুঠোফোনে ফরিদ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। বর্তমানে তিনি কর্মস্থল নোয়াখালীতে অবস্থান করছেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে। দুই পক্ষের একটিতে তার পরিবারের সদস্যরা জড়িত থাকলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চাঁনপুর ইউনিয়নের সওদাগরকান্দি এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোমেন মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।