মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ন

গু’ম-খু’নের জন্য ক্ষমা চাইলেন র‍্যাবের ডিজি

মেঘনা ডেস্ক: গত ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে র‍্যাবের ১৬ সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন র্যাব ডিজি।র‍্যাব ডিজি বলেন, ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটে। পরে র‍্যাবের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। এ কাজ করতে গিয়ে র‍্যাবের ১৬ জন সদস্য বিভিন্ন অপরাধে সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তারা চাঁদাবাজি, মাদক ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অপরাধের কারণে এসব সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চলছে।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র‍্যাবের ৫৮ জন কর্মকর্তা ও ৪ হাজার ২৪৬ সদস্যকে বিভিন্ন অপরাধে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। র‍্যাব ডিজি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। আনসার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে বিদ্রোহ, গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিতিশীল, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে কর্মবিরতিসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে র‍্যাব। সাড়ে ১৪ হাজার আসামিসহ এ পর্যন্ত অবৈধ ২০ হাজার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

আমি যতদিন দায়িত্ব পালন করবো ততদিন র‍্যাব গুম, খুনে জড়িত হবে না বলে নিশ্চিয়তা দিচ্ছি বলেও জানান র‍্যাব ডিজি শহিদুর রহমান। র‌্যাবের বিরুদ্ধে গুম খুনের অভিযোগগুলো গুম খুন কমিশনে তদন্ত হচ্ছে। র‌্যাবের বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযোগ রয়েছে যে র‌্যাবের নাকি ১০০ এর অধিক আয়নাঘর রয়েছে।

এ সম্মন্ধে আপনার বক্তব্য কি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব ডিজি বলেন, ‘র‌্যাব আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে এবং র‌্যাবের কার্যক্রম স্বচ্ছ এবং সুনির্দিষ্ট আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। র‌্যাব কোনো গুম বা খুনের ঘটনাকে সমর্থন করে না। গুমের অভিযোগ এবং আয়নাঘরের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

অভিযোগগুলোর সত্য উদঘাটনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’গুম ও খুনের অভিযোগে বিভিন্ন মহল থেকে র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি উঠেছে। সম্প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে এ দাবি উঠেছে। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব ডিজি বলেন, ‘দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে র‌্যাবের ব্যাপারে রাষ্ট্র যে সিন্ধান্ত নেয়, আমরা সে অনুযায়ী কাজ করবো।’র‌্যাবের বিরুদ্ধে সামগ্রিকভাবে মানবাধিকার লংঘনের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে র‌্যাবের বর্তমান অবস্থান কি? জানতে চাইলে র্যাব ডিজি বলেন, ‘র‌্যাব মানবাধিকার রক্ষার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। র‌্যাবে যে কোন ধরণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রমাণিত হলে দায়ী সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। র‌্যাবের প্রতিটি সদস্যকে এই বিষয়ে সচেতন করা হয় এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়।

আমরা মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’তিনি বলেন, সম্প্রতি র‌্যাব ফোর্সেস বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য সংস্থা ও স্টেক হোল্ডারদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে র‌্যাব সদস্যদের মানবাধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বর্তমান সময়ে র‌্যাব সদস্যদের দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং/সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৌশলগত দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও র‌্যাব ফোর্সেস সদস্যদের জন্য আধুনিক ও যুগপোযুগী প্রশিক্ষণ পদ্ধতি প্রণয়ন করছে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

ছাত্র জনতার জুলাই অভ্যুত্থানে র‌্যাবের হেলিকপ্টার থেকে গুলির করার অভিযোগ রয়েছে, এ ব্যাপারে র‌্যাবের বক্তব্য কি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব ডিজি বলেন, ‘র‌্যাবের কার্যক্রম সবসময় আইন ও বিধি মেনে পরিচালিত হয়। হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষণের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হবে। র‌্যাব কখনোই এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কার্যকলাপ সমর্থন করে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকলে তা সরবরাহ করার জন্য আহ্বান জানাই।

এ বিষয়ে ইউএন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিনিধিও বিভিন্ন ঘটনাস্থল ও র‌্যাব সদর দপ্তরসহ র‌্যাবের বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন করে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত চেয়েছিল, যা আমরা তাদের সরবরাহ করেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


https://www.facebook.com/profile.php?id=100089135320224&mibextid=ZbWKwL