নরসিংদী প্রতিনিধি :
নরসিংদীতে ব্যবসায়ী থেকে চাঁদা না পেয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে নরসিংদী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের আবুল ফজল ও জেলা কোকো ক্রীড়া পরিষদের সভাপতি রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে। গত ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় নরসিংদী সদর উপজেলার ব্রাহ্মন্দী এলাকার এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার (৩০ এপ্রিল) নরসিংদী সদর থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী সদর থানার এস আই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিন্টু কুমার ঘোষ।
ভুক্তভোগী মোমেন মিয়া (৪২) নরসিংদী সদর উপজেলার ব্রাহ্মন্দীর খালপাড় এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে এবং মোমেন ডোরস অ্যান্ড ফার্নিচার দোকানের মালিক।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, “ফার্নিচার ব্যবসায়ী মোমেন মিয়া তার মালিকানাধীন দোকানে প্রতিদিনের মতো কাজ করছিলেন। গতকাল ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল ফজল, জেলা কোকো ক্রীড়া পরিষদের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা ও তাদের কর্মী আল আমিন মিয়া (৪৪), বাইজিদ (২৫), রাব্বি (২৮), অলয় (২৫) সহ ৫/৬ জন লোক খালপাড় এলাকায় মোমেন মিয়ার ফার্নিচারের দোকানে চাঁদার জন্য আসে এবং ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং প্রতিবাদ করলে তখন দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্রসহ মোমেনের উপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়। এ সময় দোকানে থাকা ফার্নিচার ভাঙচুর করার অভিযোগ করা হয়।”
পরে, স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভুক্তভোগী মোমেনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার ৫ আগস্ট পর তারা একাধিকবার চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদা না দেওয়ায় এর আগে একাধিকবার হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয় যে, ভুক্তভোগীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও দোকানের ক্যাশ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী মোমেন মিয়া বলেন, “চাঁদার জন্য একাধিকবার আমাকে হয়রানি ও মারধর করেছে। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং সকলকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে দাবি করছি।”
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও নরসিংদী সদর থানার এস আই পিন্টু কুমার ঘোষ বলেন, “ঘটনার সত্যতা পেয়েছি এবং অভিযোগটি মামলা হিসেবে হবে এবং আইনী প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে নরসিংদী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল ফজল বলেন, ” চাঁদা চাওয়ার ঘটনা মিথ্যা। অভিযোগকারী আমার চাচাতো ভাই। আমার কিছু জুনিয়রের সাথে অভিযোগকারী মোমেনের ঝামেলা হয়েছে, আমি ঘটনাস্থলে পরে গিয়ে মিটমাট করে দিয়েছি। আমি শেখেরচর বাজারের একজন ব্যবসায়ী। আমার ভালো সুনাম রয়েছে। এ পর্যন্ত চাঁদা কারো কাছে চেয়েছি, এ রকম কোনো রেকর্ড নেই। আমার সুনাম ক্ষুন্ন করতে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে।