মেঘনা টিভি:
নার্সিং পেশাকে শুধু এক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে হবে না। পেশার সঙ্গে তাদের জীবনটা যেন যোদ্ধার ভূমিকায় রয়েছে। যখন কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন তখন প্রথমে ছুটে আসেন একজন নার্স। সফেদ সাদা পোশাকে এই নার্স তখন রোগীর কাছে একটি আস্থার জায়গা হয়ে দাঁড়ায়। রোগীর মনে সাহস সঞ্চার হয় একজন নার্স দেখে। রোগীর জীবন বাঁচাতে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন সেই নার্স। নার্সের কাছে দিন নেই রাতও নেই। যখনই রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন তখন থেকে তার যুদ্ধ শুরু হয়। মোটকথা অন্যের জীবন বাঁচাতে তাদের কী প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। সেবা দিয়ে তাদের এই পেশাকে মহান পেশা হিসেবে দৃশ্যমান করেছেন।
এত কিছুর পর অনেক নার্সকে রোগীদের অনেক কথা শুনতে হয়। অপমান মুখ বুজে তারা তাদের সেবার কাজটি চালিয়ে যান। গতকাল সোমবার ছিল বিশ্ব নার্স দিবস। এই দিবস উপলক্ষে সময়ের আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায়, দেশে এখনও নার্সের ঘাটতি ৭৩ শতাংশ। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বৈরিতা, উপযুক্ত কাজের পরিবেশের অভাব রয়েছে। আর কর্মক্ষেত্রে নানা ধরনের অপবাদ শুনতে হয়। এর ফলে নার্সদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নানা ধরনের নানামুখী প্রভাব ফেলে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নার্সদের সাত ধরনের পদ রয়েছে। কিন্তু কোনো পদোন্নতি নেই। এই পদোন্নতির দাবিতে নার্সদের বিভিন্ন সংগঠন রাজপথে নেমেছে। সরকারের পক্ষ থেকে অনেক সময় আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সেই আশ্বাস আর আলোর মুখ দেখে না।
জানা গেছে, সম্প্রতি হাসপাতালে পদোন্নতির জন্য ৫টি পদে ১ হাজার ৪৫৩ জনবল অনুমোদন করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে ৩২৯ জনকে।
অর্থাৎ ২৩ শতাংশ ফাঁকা। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, অনেক দিন ধরে নার্সদের কোনো পদোন্নতি নেই। শুধু পদোন্নতি কেন, তাদের জন্য সুষ্ঠু কোনো আবাসনের ব্যবস্থা নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে ২৩ জন নার্স থাকার কথা। আর একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন নার্স থাকাটা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে এ চিত্র ভিন্ন। নার্স সংকটে অনেক সময় রোগী সময়মতো চিকিৎসা পান না। আবার নার্সের শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি সময়মতো তার কর্তব্য পালন করতে পারেন না। কারণ তারও বিশ্রামের প্রয়োজন। দিন নেই রাত নেই, যদি একনাগাড়ে কর্তব্য পালন করে যান তা হলে তো নার্স রোগীদের সঠিক সেবা দিতে পারবেন না।
এখন নার্সের ঘাটতি রয়েছে সে কথা পরিসংখ্যান বলছে। কিন্তু নার্স নেওয়ার কোনো উদ্যোগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেখা যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, পদোন্নতির বেলায় প্রকৃত নার্সদের পদোন্নতি দেওয়ার ব্যাপারেও গড়িমসি লক্ষ করা যাচ্ছে। ঘাটতি পূরণ
করতে না পারলে স্বাস্থ্যসেবা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়ে যাচ্ছে। কারণ দিনে দিনে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সে তুলনায় যদি নার্সরা সেবা দিতে না পারেন তা হলে রোগীদেরও দুর্ভোগ বাড়বে। সুতরাং এখন সময় এসেছে নার্সদের ঘাটতি পূরণ করা। একই সঙ্গে পদোন্নতির মাধ্যমে নার্সদের মনোবল চাঙ্গা করা সময়ের দাবি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।