চিকিৎসার নামে ভয়ঙ্কর অবহেলা ও রোগীর জীবনের সাথে জুয়া খেলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ডা. প্রসেনজিৎ কুণ্ড অনিকের বিরুদ্ধে। বরগুনার তালতলী ও পাথরঘাটার একাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে এনেস্থেসিয়া (অজ্ঞান) বিশেষজ্ঞ ছাড়াই নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সর্বশেষ পাথরঘাটায় এক প্রসূতির মৃত্যু এ অনিয়মকে আবারও জনরোষের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পাথরঘাটার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না এনে নিজেই রোগীকে অজ্ঞান করার ওষুধ প্রয়োগ করেন ডা. অনিক। পরে অপারেশন চলাকালীন রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। জীবনের এই করুণ পরিসমাপ্তি চিকিৎসক মহলের দায়িত্বহীনতা ও বেপরোয়া মনোভাবের নগ্ন উদাহরণ হিসেবে দেখছে এলাকাবাসী।
এটাই প্রথম নয়। তালতলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে রোগীর জীবন নিয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন ডা. অনিক। একের পর এক অনিয়মের পরও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা।
এ ঘটনার পর বিষয়টি ডাক্তারদের পেশাজীবী মহলেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বরগুনা ও আশেপাশের জেলার চিকিৎসকরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।
এক সিনিয়র চিকিৎসক গ্রুপে লিখেছেন, এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ছাড়া সিজার অপারেশন সরাসরি রোগী হত্যার শামিল। এটা চিকিৎসা নীতির চরম লঙ্ঘন।
গাইনী বিশেষজ্ঞ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন চিকিৎসকরা গোটা মেডিকেল পেশার সুনাম নষ্ট করছে। দ্রুত লাইসেন্স বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
চিকিৎসক সমাজ ও সচেতন মহল একযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে তদন্ত করে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ডা. প্রসেনজিৎ কুণ্ড অনিকের বক্তব্য পাওয়ার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে01712-***828