খলিলুর রহমান রানা।।
নরসিংদীর রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নে দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া বুলবুল (৩০) নামে আরেক যুবকের লাশ ছয়দিন পর ভেসে উঠেছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার খাককান্দা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। এ নিয়ে নিলক্ষায় সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে। নিহত বুলবুল নিলক্ষা ইউনিয়নের সোনাকান্দী গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।
এর আগে নিহত চারজন হলেন নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার অনিক মিয়া (২২), বীরগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার কাউসার আহমেদ (৩৭), কান্দাপাড়ার মালয়েশিয়াপ্রবাসী লতিফ মোল্লা (৩৫) এবং হরিপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা মিয়া (৩৬)।
গত ১৬ জুন ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন (মিষ্টার) ও আলাল মুন্সির (জবা মেম্বার) গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। টেঁটা, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় কয়েকটি বাড়িঘরে। ঘটনার দিন অনিক মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরদিন বুধবার (১৭ জুন) বেলা ৩টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদীঘলদী ইউনিয়নে জিৎরামপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে টেটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউসার আহমেদের লাশ ভেসে আঠে। এর পরদিন বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিলক্ষার হরিপুরে মেঘনা নদীতে ভেসে উঠে লতিফ মোল্লার লাশ।
এদিকে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ মোস্তফা মিয়া দীর্ঘ পাঁচ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ে। একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধিন খাককান্দা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। খবর পেয়ে নিখোঁজ বুলবুলের পরিবারের লোকজন খাককান্দা নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে নিহতের লাশ শনাক্ত করে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, খাককান্দা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা লাশটি নিখোঁজ বুলবুলের বলে তার পরিবারের লোকজন শনাক্ত করে। নিলক্ষায় দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত রায়পুরা থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বুধবার (১৭ জুন) রাতে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। অপর দিকে নিহত কাউসারের স্ত্রী মুন্নি আক্তার রবিবার (২১ জুন) বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১৬-১৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।