নিজস্ব প্রতিচেদক:
যত ষড়যন্ত্রই হোক, যত আঘাতই আসুক, নরসিংদীকে বাসযোগ্য, শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শামীম আনোয়ার।
শামীম লিখেছেন, ‘আমাকে আঘাত করার জন্য কারো প্রতি ব্যক্তিগত রাগ, ক্ষোভ নেই। মহামহিম পরওয়ারদিগার তাদেরকে ক্ষমা করুন। বিপথগামী মানুষগুলোকে বারবার বলেছি, আবারও বলি, টাকার পাহাড় গড়ার এ নোংরা, পঁচাগলা পথ পরিহার করে প্লিজ সুপথে ফিরুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে থামানোর চেষ্টা তো কম করেনি কেউ। শারীরিক আঘাত, অঢেল কালো টাকা খরচ করে প্রচারযুদ্ধে মিথ্যের বেসাতি ছড়ানো, একের পর এক ফেইক আইডি খুলে জনতার আবেগে লাগাম পরানোর ব্যর্থ চেষ্টা—সবই হয়েছে। কিন্তু চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে সরিনি। এত কিছু করেও অর্জনের খেরোখাতায় লাভের অঙ্ক শুন্যই!’
শামীম আনোয়ার স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘মনে রাখবেন, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়ের এই অভিশপ্ত টাকা আপনাকে অঢেল সম্পত্তির মালিক বানাতে পারবে ঠিক, কিন্তু সুখ দিবে না কোনো দিন। আমি আপনাদেরকে প্রতিপক্ষ নয়, অতীত ভুলে ভালো কাজের সহযোগী হিসেবেই দেখতে চাই।’
উল্লেখ্য, এএসপি শামীম আনোয়ার এর আগে নরসিংদীতে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর পর থেকেই তিনি বিভিন্ন মহলের চাপ ও হুমকির মুখে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৪ অক্টোবর পৌর শহরের আরশিনগর এলাকায় দুই ব্যক্তি চলন্ত যানবাহন থেকে টাকা তুলছিলেন। তাদের আটক করতে গেলে হঠাৎ ৩০–৩৫ জন অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা শামীম আনোয়ারকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে এবং আটক দুই চাঁদাবাজকে ছিনিয়ে নেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং পরে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।