সানজিদা আক্তার সুমি সরেজমিনে চরমধুয়া থেকে ঘুরে এসে। নরসিংদীর রায়পুরার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল চর মধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামে একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষের বাড়ি-ঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আতঙ্কে গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার। পরিবারের লোকজন বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক কলহের জেরে গাজীপুর গ্রামের মো. মঙ্গল মিয়ার ছেলে মো. রফিকুল সরকার (৪৮) নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় ১৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য: নিহত রফিক সরকারের ছোট ভাই মোস্তাকিন মামলা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে, নিহত রফিকুল সরকারের স্ত্রী কে নরসিংদীতে এনে তাকে এক প্রকার জিম্মি করে বিদেশী ও টাকা ওয়ালা দেখে দেখে আসামি করা হয়। ঘটনার পর দিন একযুগে আটটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে, ঘরে থাকা লকার ভেঙ্গে স্বর্ণালংকার লুটপাটসহ তাদের পালিত ২০টি গরু নিয়ে যায়। অগ্নিসংযোগ লুটতরাজের নেতৃত্ব দেই মুত্তাকিন।
অভিযোগ রয়েছে, মামলাকে পুঁজি করে বাদীপক্ষের কিছু লোক আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে আসামিদের বাড়ি-ঘরে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে। তারা বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজি করছে। এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩০টি পরিবারের বাড়িঘরের মালামাল লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

নিহত রফিক সরকার
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা রফিকুল সরকার হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না থাকা নিরীহ মানুষও এখন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। রফিকুল সরকার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কোন নিরীহ লোক যাতে হয়রানির শিকার না হয়, এলাকাবাসী সাংবাদিকদের কাছে এ আবেদন করেন এবং প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে গরু-বাছুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেক পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
ভুক্তভোগী আসমা বেগম বলেন, আমানুল্লাহর নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক হঠাৎ করে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং আমার মাকে মারধর করে। ঘরে থাকা প্রায় ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমরা নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার চাই এবং নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে চাই।
আরেক ভুক্তভোগী সুরাইয়া বেগম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমাদের চারটি গরু নিয়ে গেছে, আমার দুই পুত্রবধূর স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে গেছে। পরে আমাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এখন আমরা কোথায় যাব, কোথায় থাকবো? প্রশাসনের কাছে আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমানুল্লাহ আমান তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাতে কে বা কারা চাঁদা দাবি করে তা আমার জানা নেই। তারা নিজেদের মালামাল নিজেরাই নিয়ে গেছে, কেউ লুটপাট করেনি।
অন্যদিকে, নিহত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ও ইউপি সদস্য লাভলী বেগম বলেন, প্রধান আসামি পাঁচজন আমার স্বামীকে গাছে বেঁধে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি শুধু আমার স্বামীর হত্যার বিচার ও দোষীদের ফাঁসি চাই।
চর মধুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসান সিকদার বলেন, রাতের আঁধারে কালো মুখোশ পরা কিছু ব্যক্তি অস্ত্র দেখিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০টি বাড়ির মালামাল লুটপাট হয়েছে এবং ৫ থেকে ৬টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৮ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, নিরাপত্তা জোরদার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য: শ্রমিক নেতা আমানুল্লাহ ও মুত্তাকিন বিভিন্ন জনকে হুমকি ধামকি দিয়ে বলে আমাদের টাকা না দিলে অজ্ঞাতনামার যায়গায় তোমাদের ঢুকিয়ে দিব। আসামি না দেওয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে আড়াই লক্ষ করে টাকা নিচ্ছে। টাকা নেওয়ার ভিডিও রেকর্ড আছে। ভাইরাল ভিডিও রেকর্ড, ভিডিও রেকর্ড রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তদন্ত কারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর আতিয়ার এর কাছে দেওয়া আছে।
এ ব্যাপারে নরসিংদীর পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক বলেন, আমরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছি। চরাঞ্চলে কারা উস্কানি দিয়ে,অর্থ দিয়ে এবং কারা এসবের পিছনে কলকাঠি নাড়ছে সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো, আমি এ ব্যাপারে এমপি মহোদয়ের সাথে আলাপ করেছি। আপনার সংবাদকর্মীরা আমাদের সহযোগিতা করবেন।
পুলিশ সুপারের কাছে প্রশ্ন করলে,যাদের বাড়িঘর পুরা হয়েছে, লুটপাট হয়েছে,রায়পুরা থানার ওসি মামলা নিচ্ছে না।
এ প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, এমন টি হওয়ার কথা না।ভুক্তভোগী পরিবার আমার সাথে দেখা করলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।