মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খুলনা থেকে:
১০ এপ্রিল ২০২৬: পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE)-এ চরম দুর্নীতি বিরাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের বিনিময়ে দূষণকারী শিল্পকারখানাকে পরিবেশগত ছাড়পত্র (Environmental Clearance Certificate) দেওয়া, লাইসেন্স বাণিজ্য এবং নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেনের কারণে দেশের পরিবেশ দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা ও বিশেষজ্ঞরা।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, কারখানা স্থাপনের জন্য সাইট ক্লিয়ারেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র পেতে আগ্রহীদের ১ লাখ ৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিটি ছাড়পত্রের বিপরীতে ১ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এই দুর্নীতির ফলে দূষণকারী কারখানাগুলো সহজেই অনুমোদন পাচ্ছে, যা নদী-বায়ু-মাটির দূষণ বাড়িয়ে তুলছে এবং জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর অনুসন্ধানেও পরিবেশ অধিদপ্তরে ৫টি প্রধান দুর্নীতির কারণ চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদানে অনিয়ম ও ঘুষ
প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক গরমিল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে দুর্নীতি দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর এনফোর্সমেন্টের অভাব মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে অবৈধ লেনদেন সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন জেলায় (যেমন: বরিশাল, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ) পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগে বহিষ্কার, মানববন্ধন ও তদন্তের ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে অডিও ফাঁস ও অভিযোগের পরও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, “পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে থাকা অধিদপ্তরই যদি দুর্নীতিতে ডুবে থাকে, তাহলে দেশের পরিবেশ ও জনগণ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে?” তারা দ্রুত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুর্নীতি তদন্ত ও প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ ধরনের দুর্নীতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।