খলিলুর রহমান রানা:
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) রোজী আক্তারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের সাক্ষাৎ না দেওয়া, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় রাখা, ফোনে সাড়া না দেওয়া এবং বক্তব্য চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের (এডিসি) কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য নিতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। আমার দেশের জেলা প্রতিনিধি এম হাসান কুমিল্লায় মামলা প্রত্যাহারসংক্রান্ত তথ্য জানতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে তাকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি হিসেবে ডিসির বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তিনি তা পাননি।
নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে বক্তব্য নিতে গিয়ে একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান ডিবিসির প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাকেও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। এর আগে চ্যানেল ওয়ানের প্রতিনিধি সৌরভীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, জেলা প্রশাসক জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা তার বক্তব্য চাইতেই পারেন। নিজের দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বক্তব্য অন্য কর্মকর্তার কাছে পাঠানো সমীচীন নয় বলে মন্তব্য তাদের।
এদিকে গত ৬ আগস্ট গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যাসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তার আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দিন মোহাম্মদ এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সাংবাদিক নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলার কারণে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরানও বলেন, সাংবাদিকদের বক্তব্যের প্রয়োজনেই ডিসির কাছে যেতে হয়; তাই নিজস্ব দায়িত্বসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য দেওয়া উচিত।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, অভিযোগটি সত্য হলে তা দুঃখজনক। দায়িত্বশীল পদে থেকে জেলা প্রশাসকের সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে পল্লী নিউজ টিভি জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের বক্তব্য জানতে তার। প্রশাসক রোজী আক্তারের সরকারি এই ০১৭….৪৯০০ ফোন করলে অন্য একজনকে দিয়ে ফোন রিসিভ করান।
পরিচয় দিয়ে জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারকে ফোন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে, ম্যাডাম মিটিংয়ে আছে বলে ফোন কেটে দেই। পড়ে অনেকবার চেষ্টা করলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।