নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মালিকানা ফসলি জমি,অকৃষি সরকারি খাস জমি জোরপূর্বক অবৈধভাবে দখল ও জেলেদের একমাত্র আয়ের উৎস কাঁকন নদী রক্ষা পাইনি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের রাক্ষসী থাবায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে,রায়পুরা ইউনিয়নের সাহারখোলায় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ সর্বমোট প্রায় ৩২.২০ একর জমির মধ্যে মাহমুদপুর ও চর বাখরনগর মৌজায় মালিকানা ফসলি জমি ক্রয়-বিক্রয়ে পরিশোধ ও অপরিশোধ,অকৃষি সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত লীজে প্রস্তাবিত মোট ৫৮ টি দাগে বোরো ও নাল শ্রেণীর মোট ১০.৩০ একর জমি লিজে প্রস্তাবিত জোরপূর্বক অবৈধভাবে দখল।
মাহমুদপুর, ও চর বাখরনগর মৌজায় সংমিশ্রণ রায়পুরা মৌজায় ৫৭৬৪নং ও বাখরনগর মৌজায় ৬৩৪ নং দাগে কাঁকন নদীটি বয়ে যাওয়াজেলেদের একমাত্র আয়ের উৎস কাঁকন নদীটিও রক্ষা পাইনি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের রাক্ষসী থাবায়।
কাঁকন নদীটি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ অবৈধভাবে দখল করায় ফসলি জমি ও জেলেদের জীবিকা নির্বাহের খুবই কষ্ট সাধ্য হচ্ছে বলে চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ পাওয়া যায়।
এছাড়াও কাঁকন নদীর প্বার্শবর্তীতে ৩ টি সুইচগেইটে পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় অকেজো হয়ে পড়েছে রয়েছে লক্ষ্য করা যায়।
পেশাদার জেলে বিমল চন্দ্র সহ আরও অনেকেরা জানান,মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ঐতিহ্যবাহী কাঁকন নদীটি রাক্ষসী গ্রাসে আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস নিঃস্ব করে ফেলেছে। আমাদের জীবিকা নির্বাহ করা খুবই কষ্ট হয়েছে পড়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিনিধি অবস্থিত রায়পুরায় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ অফিসে যোগাযোগ করার জন্য সরাসরি উপস্থিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেখা যায়নি। তবে সিকিউরিটি গার্ড রফিকের মোবাইল নাম্বার পাওয়া যায়। পরবর্তীতে প্রতিনিধি সিকিউরিটি গার্ড মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ওয়্যাসআপে তিনি অফিসিয়াল মোবাইল নাম্বার দেন এবং বলে এটাই মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অফিসিয়াল মোবাইল নাম্বার। এই নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। তৎক্ষনাৎ ঔই মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মুঠো ফোনে বলেন আমি রায়পুরা ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন।
এ বস্থায় সোহরাব হোসেনকে মুঠোফোনে জানায়, আপনার মোবাইল নাম্বারটি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের রায়পুরা অফিস থেকে সিকিউরিটি গার্ড দিল। আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে বললো এটাই মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অফিসিয়াল মোবাইল নাম্বার। বিষয়টি বুঝলাম না বলতা বলতেই ইউপি সদস্য মুঠোফোন কেটে দেন।
ভুক্তভোগী মোখলেস জানান,কাঁকন নদীটি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ জোরপূর্বক বালু ফালিয়ে দখল করে এবং আমার ফসলি জমিগুলো মূল্য না দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীর নেতৃত্বে আরও বেশ কয়েকজনের ফসলি জমিতে জোরপূর্বক বালু ফালিয়ে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের আওতায় বুঝিয়ে দেয়।
আরেক ভুক্তভোগী জরিনা বেগম জানান,এই মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ কাঁকন নদীটি জোরপূর্বক দখল ও অনেক মানুষের ফসলি জমি মূল্য দিয়ে,আবার না দিয়েও জোরপূর্বক বালু ফালিয়ে দখল করে থাকে।এতে অনেকের ফসলি জমিগুলো ক্ষতি করা হলো।
তিনি আরও জানান,আমাকে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির লোকেরা বলছিলো অন্য এক জায়গায় ঘরবাড়ি তোলে দিবে। দীর্ঘ দিন হয়ে গেল।কোথায় কি? কোনোকিছুই হচ্ছে না।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুকরা জানান,রায়পুরা ইউপি চেয়ারম্যান,ইউপি সদস্য সহ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী কতিপয় প্রভাবশালীরা কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের বিনিময়ে এই মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজকে মালিকানা ফসলি জমি,কাঁকন নদীসহ ও অকৃষি সরকারি খাস জমিগুলো জোরপূর্বক বালু ফালিয়ে দখল করে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল জানান,এই কাঁকন নদীটি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ বালু ফালিয়ে অবৈধভাবে দখল করায় কাঁকন নদীর পানি প্রবাহ হচ্ছে না। পরর্বতীতে এদিকে,বৈকুন্ঠপুর টু আব্দুল্লাহচর যাওয়ার একটি ব্রিজ না দিয়ে মাটি ভরাট করে রাস্তা করা হয়।এতে ফসলি জমিতে তেমন ফসল হচ্ছে না এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের একমাত্র জেলেদের জীবিকা নির্বাহের আরও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, বিগত ২০২০ সালে এই কাঁকন নদীটি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ যাতে অবৈধভাবে বালু ফালিয়ে দখল না করতে পারে।এ বিষয়ে গণস্বাক্ষর নিয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক বরাবর পর্যন্ত আবেদন করি। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার আমলে গণস্বাক্ষরিত আবেদনটি গ্রহণ না করায় কাঁকন নদীটি তাদের দখল করে।
এ বিষয়ে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ সাবেক সার্ভেয়ার মাহবুব জানান,রায়পুরা ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হেলিমসহ প্রভাবশালী কয়েকজনের সহযোগিতায় প্রথম মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য জমি ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। পরর্বতীতে বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু’র নির্দেশে রায়পুরা ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আলী,ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন, দলিললেখক মিলন সহ প্রভাবশালী আরও ৩-৪ জনের একটি সেলস টিমের মাধ্যমে মালিকানা ফসলি জমি ক্রয়-বিক্রয়, কাঁকন নদীসহ অকৃষি সরকারি খাস জমি উপজেলা ভূমি অফিসে লিজ নেওয়ার প্রস্তাবিত জমি তাদের সার্বিক সহযোগিতায় দখল করে।
তাছাড়া তিনি আরও জানান,আমার জানামতে ফসলি জমির মালিকরা বেশি ভাগ জমির মালিকেরা তাদের ফসলি জমির মূল্য দেওয়া হয়নি।
রায়পুরা শাখার মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ডিজিএম ওয়াসিমবাবু জানান, ফসলি জমির মালিকানা যারা এখন জমি মূল্য এখনও পাইনি মূল্য রায়পুরা ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আলী,ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন ও মিলন ভেন্ডার সেলস টিমের মাধ্যমে জমিগুলোর পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
তাছাড়া তিনি আরও বলেন, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রি সরকারি খাস জমি নেওয়ার জন্য উপজেলা ভূমি অফিস থেকে লিজ নেওয়ার প্রস্তাবিত দেওয়া আছে।
অনুসন্ধানসূত্রে জানা যায়,কাঁকন নদী সহ অকৃষি সরকারি খাস জমি দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত লিজে প্রস্তাবিত জমির মূল্য ১ কোটি ১৫ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫ শত টাকা ধার্য করা হয়, কিন্তু এখনও তা পরিশোধ করা হয়নি।
এ বিষয়ে রায়পুরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন পাল জানান,মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ কাঁকন নদী দখল ও অকৃষি সরকারি খাস জমি দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত লিজে প্রস্তাবিত দেওয়া আছে কিনা তা এই বিষয়ে অবগত নয় বলে জানান।
ফসলি জমির মালিকরা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই দাবী,এই কাঁকন নদীটি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট আকুল আবেদন দ্রুত এই নদীটি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের রাক্ষসীর হাত থেকে রক্ষা করে দ্রুত কাঁকন নদীটি খনন করার আহবান জানান।
ফসলি জমির মালিকেরা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের জেলেদের একমাত্র জীবিকা নির্বাহের সহায়তায় দ্রুত সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক বলে দাবি জানান।