শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হত্যার পর ফেলে দেওয়া হয়েছিল নদীতে, ৬ দিন পর ভেসে উঠলো লাশ। নরসিংদীর রায়পুরায় হিন্দু গ্রাম পুলিশ নিখোঁজ: ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী পৈত্রিক সম্পত্তি দখলচেষ্টর অভিযোগ। নরসিংদীতে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: চাপাতিসহ আটক রাহাত রায়পুরার মির্জাপুর ইউনিয়ন কর্মী সম্মেলনে তৃণমূল নেতাদের মূল্যায়নের বার্তা মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন: আলোকবালীতে মাদকবিরোধী মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ধাপেরহাটে জামায়াতের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি ও আন্তঃওয়ার্ড ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত। নরসিংদীর রায়পুরায় সংঘাত ও হত্যাকাণ্ডে উত্তপ্ত পরিস্থিতি: অপরাধীদের বিরুদ্ধে এমপির জিরো টলারেন্স নীতি রায়পুরার নিলক্ষায় সংঘর্ষে নিহত অনিকের’মা’নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছেন। নরসিংদীতে সংঘর্ষ: পুলিশের ভেস্ট পরা আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার  নরসিংদীতে টেটাবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার, সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩

ভালো নেই নরসিংদীর মুলি বাঁশের ছৈয়ালরা

ছবি মেঘনা টিভি

সানজিদা আক্তার।।
ইট-পাথরের যাঁতাকলে পড়ে নরসিংদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও মুলিবাঁশের ব্যবহার। একটা সময় ছিল মানুষ বাঁশ ও মুলিবাঁশ দিয়ে ঘর থেকে শুরু করে গৃহস্থালি কাজকর্মে ব্যবহার করার জন্য নানান রকমের জিনিসপত্র তৈরি করতো। টিনের ঘরের জন্য নানান কারুকাজে সজ্জিত বেড়া, কার (ঘরের ভিতরে চালের নিচের অংশে সিলিং) তৈরি করতো। এসব কাজ যারা করেন তাদেরকে বলা হয় ছৈয়াল বা মুলির কারিগর। একসময় এসব কারিগরদের চাহিদাও ছিল প্রচুর।

কালের বিবর্তনে এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাঁশ ও মুলিবাঁশের ব্যবহার বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এসব কারিগররা অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছেন। কেউবা এই পেশা পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে গেলেও অনেকেই বয়স অথবা অন্য কোনো কাজ না জানার কারণে এখনো এই পেশায় জড়িত রয়ে গেছেন। ফলে যারা আছেন তারা অনেকটাই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কারুকাজপূর্ণ গ্রামবাংলার এই শৈল্পিক পেশাকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণসহ নানামুখী সহযোগিতার প্রত্যাশা করেন এই পেশায় নিয়োজিত ছৈয়ালরা।

ছৈয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মানুষ এখন বাড়িঘর নির্মাণে ইট-পাথর ও টিন ব্যবহার করলেও গ্রামাঞ্চলে রান্নাঘর ও গরুর ঘর তৈরি করতো মুলিবাঁশ দিয়ে। সেটাও প্রযুক্তির গ্যাড়াকলে পড়ে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব মুলিবাঁশ ব্যবহার না করে, পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ একধরনের রাবার ও প্লাস্টিকের শিট ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে ছোট ছোট ঘর। এসব রাবার ও প্লাস্টিকের শিট ব্যবহারে পরিবেশ যেমন হুমকিতে, তেমনি মানুষেরও রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। পরিবেশ রক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এগুলো বর্জনে মানুষকে সচেতন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দরকার বলে মনে করেন তারা। নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর, দিলারপুর এবং শিবপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে মুলিবাঁশের ছৈয়ালদের সঙ্গে কথা হলে

তারা বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষেরা এ কাজে জড়িত ছিলেন। তাদের দেখাদেখি আমরাও প্রায় ৫০ বছর ধরে এই কাজ করছি। একটা সময় ছিল, মানুষ নতুন ঘর তৈরি করতে চাইলেই আমাদেরকে ডাকতেন বা তারা ছুটে আসতেন। কেমন ডিজাইন হবে, কী ধরনের কারুকাজ করা যায় তা নিয়ে শলাপরামর্শ করতেন।

কিন্তু এখন আমাদের কেউ ডাকে না, আমাদের কাজটাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মানুষ এখন দালানকোঠা তৈরি করে। বর্তমানে এই পেশার শ্রমিকরা খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে চলছে আমাদের সংসার।

অন্য কোনো কাজ জানা নেই, আবার দিনমজুর করার বয়সও নেই। তাই কষ্ট হলেও মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। সরকার যদি আমাদের পুনর্বাসন বা সহজভাবে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতো, তাহলে আমরা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


https://www.facebook.com/profile.php?id=100089135320224&mibextid=ZbWKwL