খলিলুর রহমান রানা, নরসিংদী থেকে:
নরসিংদীর রায়পুরার চাঁনপুর ইউনিয়নে পূর্ব বিরোধের জেরে বাড়িতে ঢুকে মোমেন মিয়াকে গুলি করে হত্যা
নিহতের ভাই আমিন মিয়া বাদী হয়ে ৬৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
প্রধান আসামি: ফরিদ গ্রুপের প্রধান ফরিদ উদ্দিন।
পুলিশের বক্তব্য: জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নে পূর্ববিরদের জেরে বাড়িতে ঢুকে মোমেন মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ৬৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে অভিযুক্তদের কয়েকজন প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে রায়পুরা থানায় নিহতের ভাই আমিন মিয়া বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ফরিদ গ্রুপের প্রধান ফরিদ উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের সদাগরকান্দি এলাকায় সরকারবাড়ির মোমেন গ্রুপ ও পূর্বপাড়া ফরিদ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফরিদ গ্রুপের লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মোমেন গ্রুপের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা মোমেন মিয়ার বাড়িতে ঢুকে তাকে মাটিতে ফেলে প্রথমে শর্টগান দিয়ে পায়ে গুলি করে। পরবর্তীতে ঘাড়ের ওপর মাথার পেছনে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
এই হামলায় আরও কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে মোবারক (৬৫), নাজমুল হোসেন (৩০) ও রুহুল আমিন (৩৭) রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। নিহত মোমেন মিয়া সদাগরকান্দি গ্রামের মৃত ধন মিয়ার ছেলে।
আতঙ্কে এলাকাবাসী, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি চাঁনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নিহতের চাচাতো ভাই মোমেন সরকার অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা ও মহড়া দিচ্ছে।
তিনি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা বর্তমানে সাধারণ মানুষকে হত্যার হুমকিও দিচ্ছে।
মামলার বাদী ও নিহতের ভাই আমিন মিয়া আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন,“আমার বড় ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ হত্যাকারীরা এখনো বাজারে অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”
তিনি চরাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য
নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।