নরসিংদীর শিবপুরে প্রথম স্বামীকে আইনগতভাবে তালাক না দিয়েই পরকীয়া প্রেমিক এক ইতালি প্রবাসীকে গোপনে বিয়েরঅভিযোগ উঠেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, পরকীয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে আদালতে দুটি পৃথক মামলা করেছেন তাঁর স্বামী। পাশাপাশি অভিযুক্তশিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রায়পুরা উপজেলার ব্রাহ্মণেরটেক-মরজাল এলাকার বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন, যিনিনৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, প্রায় ১৮ বছর আগে শিবপুরউপজেলার জয়নগর এলাকার কোহিনূর আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে ১৪ বছর বয়সী এক ছেলে ও ১১ বছর বয়সীএক মেয়ে রয়েছে। কোহিনূর আক্তার বর্তমানে শিবপুরের ৫৪ নম্বর পাহাড় জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারীশিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।
আফতাব উদ্দিনের অভিযোগ, চাকরির কারণে তিনি কর্মস্থলে থাকায় স্ত্রী দীর্ঘ সময় বাবার বাড়িতে অবস্থান করতেন। সেইসুযোগে স্থানীয় এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জমি কেনাসহ বিভিন্ন পারিবারিক প্রয়োজনের কথা বলে গততিন বছরে প্রায় ৩০ লাখ টাকা তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয় এবং ঘরের প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কারও সরিয়ে নেওয়া হয় বলেঅভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, কোরবানির ঈদের সময় ভিডিও কলে স্ত্রীকে ওই প্রবাসীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতেপেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন না করেই স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আফতাব উদ্দিন বলেন, “সারাজীবনের উপার্জিত সঞ্চয় স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছিলাম। এখন আমি নিঃস্ব। আমার দুটিসন্তানের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
কোহিনূর আক্তার বলেন, “স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমি ডিভোর্স দিয়েছি। এরপরই দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। এখনআমি অন্য একজনের বৈধ স্ত্রী।” তবে ডিভোর্সের কাগজপত্র দেখানোর অনুরোধ করা হলে তিনি তা প্রদর্শন করতে পারেননি।
মামলার নথি অনুযায়ী, আফতাব উদ্দিন শিবপুর আমলি আদালতে দণ্ডবিধির ৪৯৭, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় একটি মামলা(নং-৬৩০/২০২৬) দায়ের করেছেন। আদালত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্তকর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া মামলা দায়েরের পর তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া ও হামলার অভিযোগ এনে তিনি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটআদালতে ১০৭/১১৪/১১৭(গ) ধারায় আরও একটি আবেদন করেন।
এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতের নির্দেশনা ও তদন্তেরঅগ্রগতির ভিত্তিতে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষক হিসেবে নৈতিকআচরণসংক্রান্ত অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাহবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও বাসিন্দা বলেন, অভিযোগগুলোরনিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন হওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগউঠলে তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির সঙ্গেও সম্পর্কিত; তাই আইন ও বিধি অনুযায়ী দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।