সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি নরসিংদীর লোক ভাড়া করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ২ প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে ১০ হাজার শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া : শ্রমমন্ত্রী অসুস্থতায় বিছানায় ধুঁকছেন সহাস্যমুখের সাংবাদিক এম এ সালাম রানা শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে : ভারতীয় হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে ১২০০ ইউনিট রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে রেকর্ড ১,৩২১ মেগাওয়াট উৎপাদন, যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিতে যুবক নিহত নরসিংদীতে ইউএনও’র আদেশ অমান্য করে বসতবাড়িতে প্রবেশের একমাত্র রাস্তা বন্ধ, অবরুদ্ধ পরিবার!

৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-সহ দেশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত বিভিন্ন পদমর্যাদার অন্তত ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।এর মধ্যে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে অজামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষ্য দিতে হাজির না হওয়ায় এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

শনিবার (০৩ অক্টোবর) সিএমপির উপকমিশনার (সদর) দপ্তর থেকে ১৮টি পৃথক স্মারকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ইউনিটে পাঠানো চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিএমপির ডিসি হেডকোয়ার্টার সই করা এসব চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলায় চলতি অক্টোবর ও আগামী নভেম্বর মাসের বিভিন্ন তারিখে পুলিশ সদস্যদের সাক্ষ্য দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে। নির্ধারিত তারিখে সকাল ৯টার মধ্যে সাক্ষীদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।চিঠিতে আরও বলা হয়, আদালত সাক্ষীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও অজামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। নির্ধারিত তারিখে সাক্ষীরা হাজির না হলে এবং এর কারণে সাক্ষীর অভাবে রাষ্ট্রপক্ষের মামলার ফলাফল বিপর্যস্ত হলে এর দায়-দায়িত্ব সাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে।জানা যায়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় পুলিশ সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে বিপুলসংখ্যক ফৌজদারি মামলার বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে পুলিশ সদস্যরা অনুপস্থিত থাকায় মামলার মেরিটও দুর্বল হয়ে পড়ছে।এ বিষয়ে সিএমপির উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মামলার ধার্য তারিখে পুলিশ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার চেষ্টার কমতি নেই। যেসব পুলিশ সদস্য দেশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত আছেন, তারা আদালতে আসার জন্য ভাতা সুবিধা পান। কিন্তু যেসব পুলিশ সাক্ষী অবসরে গেছেন বা চাকরিচ্যুত হয়েছেন, তারা মামলার ধার্য তারিখে আদালতে আসার ভাতা বা যাতায়াত খরচ পান না।

তিনি আরও বলেন, ‘আবার রিজার্ভ অফিসে পুলিশ সাক্ষীর সমন পাঠানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিপি নম্বর থাকে না।

এজন্য সাক্ষীর কর্মস্থল খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সিএমপির সমন শাখার গাফিলতি আছে কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

এর আগে বিচারাধীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষ্য না দেওয়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এসব পুলিশ সদস্যের বেশির ভাগই একসময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও জেলার বাইরে পুলিশের বিভিন্ন জোন ও থানায় এসব চিঠি পাঠানো হয়েছিল।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি সিএমপির এক চিঠিতে ৩৩ জন পুলিশ সাক্ষীকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটের রিজার্ভ শাখায় যথাসময়ে সাক্ষীর সমন পাঠানো হলেও সেসব সমন দিনের পর দিন কিংবা মাসের পর মাস পড়ে থাকে।একাধিক পুলিশ সাক্ষীর অভিযোগ, রিজার্ভ অফিস, থানা ও পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানেরা গুরুত্ব না দেওয়ায় অনেক সময় সমন নোটিশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছানোর পরও দিনের পর দিন সেখানে পড়ে থাকে। ফলে পুলিশ সাক্ষীরা ধার্য তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


https://www.facebook.com/profile.php?id=100089135320224&mibextid=ZbWKwL