রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহচর্য লাভ করা যে কোনো মানুষের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সৌভাগ্য। আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গ যাঁরা লাভ করেছেন, তাঁরা সবাই জান্নাতের অধিবাসী। সাহাবীদের (رضي الله عنهم) মর্যাদা এমন যে, আল্লাহ্ তাআলা তাঁদের প্রশংসা করেছেন এবং জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।
ভুল ধারণা – শুধু ১০ জন সাহাবী জান্নাতী নন, অনেকেই মনে করেন, শুধু “আশারায়ে মুবারশশারা”— অর্থাৎ যাঁদেরকে দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে— কেবল তাঁরাই জান্নাতী।আসলে এটি ভুল ধারণা।
আশারায়ে মুবারশশারা ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত দশজন সাহাবী। তবে সমস্ত সাহাবীই জান্নাতী – তা কুরআন ও হাদীসে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। যেমন, হযরত খাদিজা (رضي الله عنها),
ফাতিমা (رضي الله عنها), হাসান ও হুসাইন (رضي الله عنهما)
তাঁদের নাম সেই তালিকায় না থাকলেও তাঁরা সবাই জান্নাতী।
কুরআনের প্রমাণ।
সাহাবীদের প্রশংসাঃ> لَقَدۡ رَضِيَ ٱللَّهُ عَنِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ إِذۡ يُبَايِعُونَكَ تَحۡتَ ٱلشَّجَرَةِ (সূরা ফাতহ: ১৮) মুহাজির ও আনসারদের সুসংবাদ: وَٱلسَّـٰبِقُونَ ٱلۡأَوَّلُونَ مِنَ ٱلۡمُهَـٰجِرِينَ وَٱلۡأَنصَارِ … رَّضِيَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُوا۟ عَنۡهُ (সূরা তাওবা: ১০০) হাদীসের প্রমাণ
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ «لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي … فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا، مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ»
(বুখারি, মুসলিম)
আমাদের করণীয় – সাহাবীদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান।
১. সাহাবীদের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা পোষণ করা।
২. তাঁদের মর্যাদা স্বীকার করা।
৩. তাঁদের জন্য দোয়া করা।
৪. তাঁদের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া।
৫. তাঁদের ইতিহাস অধ্যয়ন করা।
৬. তাঁদের শত্রুদের থেকে দূরে থাকা।
৭. তাঁদের পথ অনুসরণ করা।
৮. তাঁদের নাম সম্মানের সঙ্গে উচ্চারণ করা।
৯. তাঁদের নিয়ে বিতর্ক এড়ানো।
১০. তাঁদের জন্য নিয়মিত দোয়া ও সালাম পাঠ করা।
তাদের জন্য দোয়া
اللَّهُمَّ اجعل قلوبنا سليمةً لِأَصْحَابِ نَبِيِّكَ، وَارْزُقْنَا حُبَّهُمْ وَاتِّبَاعَ طَرِيقِهِمْ، وَاحْشُرْنَا فِي زُمْرَتِهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. آمين.