বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডিজেলে পড়ে নিভে গেল আড়াই বছরের শিশু আরাফের প্রাণ। অবশেষে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মনসুর আহমেদের বদলী, নরসিংদী সদর হাসপাতাল জুড়ে স্বস্তি বেলাবোতে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীকে আটক: ভিডিও ভাইরাল এক ঘরে দুই এমপি স্বামীর পর সংসদে যাচ্ছেন স্ত্রী শিরীন সুলতানাও উপজেলা পৌরসভার পরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারই গুম কমিশনের বিপক্ষে ভোট দিলেন উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ জানা গেল ভালো নেই নরসিংদীর মুলি বাঁশের ছৈয়ালরা নরসিংদীতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত এক তৃতীয়াংশেরও বেশি শিক্ষার্থী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা মো. দিদারুল ইসলামের

ডিজেলে পড়ে নিভে গেল আড়াই বছরের শিশু আরাফের প্রাণ।

ছবি মেঘনা টিভি

শফিকুল ইসলাম সাগর, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ

একটি ছোট্ট অসাবধানতা, আর অসতর্কতায় নিভে গেল একটি নিষ্পাপ প্রাণের আলো। গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের পালানপাড়া গ্রামে হৃদয় বিদারক এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আড়াই বছরের শিশু আরাফের।

গত ২১ এপ্রিল/২৬ মঙ্গলবার  বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে বাড়ির বারান্দায় খেলা করছিল ছোট্ট শিশু আরাফ। পরিবারের অগোচরে হঠাৎই সে ঘরের বারান্দায় ঢেকে রাখা ডিজেল তেলের কাটা প্লাস্টিকের ড্রামে পড়ে যায়। 

এলাকাবাসীরা জানায়, ওই ড্রামটিতে ট্রাকের ট্যাংকি থেকে নামানো প্রায় ৫০ লিটার ডিজেল সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল।
অসাবধানতাবশত ড্রামে পড়ে গিয়ে শিশু আরাফ ডিজেল পান করে ফেলে।

পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে দ্রুতগতিতে  উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়।

সেখানে চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হয়নি।

 বুধবার ২২ এপ্রিল/২৬ ভোর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ছোট্ট শিশু  আরাফ।

নিহত শিশু আরাফ পালানপাড়া গ্রামের বাবু মিয়ার সন্তান। পরিবারের একমাত্র শিশুকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবু মিয়ার পরিবারের একটি ট্রাক রয়েছে, যার ডিজেল ট্যাংকি ফুটো হয়ে যায়।ট্যাংকি মেরামতের জন্য  ট্যাংকিতে থাকা সব তেল বাড়ির বারান্দায় একটি কাটা  ড্রামে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। সেই কাটা ড্রামে ঢেকে  রাখা ডিজেলে শিশু আরাফ খেলতে খেলতে পড়ে যায় ও তেল খেয়ে ফেলে। দ্রুতগতিতে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর রাতে শিশু আরাফ মারা যায়। 

 সামান্য অসতর্কতার কারণেই ঘটে গেল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

২২ এপ্রিল সকালে শিশু আরাফের মরদেহ রাড়িতে নিয়ে আসা হলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। 

শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান একরামুল।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের আবারও সতর্ক করে দেয়—শিশুরা অত্যন্ত কৌতূহলী, আর সামান্য অসাবধানতাই কেড়ে নিতে পারে তাদের মূল্যবান জীবন। তাই বাড়িতে দাহ্য বা বিপজ্জনক পদার্থ সংরক্ষণে বাড়তি সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি।

 একটুখানি অসতর্কতা—আর তাতেই নিভে গেল একটি সম্ভাবনাময় জীবনের আলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


https://www.facebook.com/profile.php?id=100089135320224&mibextid=ZbWKwL