বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নরসিংদীর শিবপুরে ৯০০ গ্রাম গাঁ’জা ও ১ লাখ ৫ হাজার টাকা সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রে’প্তার। ১৮ বছরের সম্পর্কের করুণ পরিণতি: গোপনে বিয়ে করায় শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা নরসিংদীতে বিদেশি পিস্তলসহ আটক ২ নরসিংদীতে প্রকাশ্যে কারেন্টের শক দিয়ে মাছ শিকার: ধ্বংসের মুখে মেঘনার জীববৈচিত্র্য ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে নরসিংদীতে নানা কর্মসূচি নরসিংদীর রায়পুরায় বাড়িতে ঢুকে মোমেন মিয়া হত্যা: ৬৬ জনের নামে মামলা, ৩০ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার নেই নরসিংদীর রায়পুরায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ “নরসিংদীতে বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও ধর্ষণ মামলার আসামিসহ গ্রেফতার ২০ জন” নরসিংদীর রায়পুরা প্রেসক্লাবে বারবার হামলা ও ভাঙচুরে নিশ্চুপ প্রশাসন: ধ্বংসের মুখে ঐতিহ্যবাহী রায়পুরা প্রেসক্লাব, সাংবাদিকদের ক্ষোভ। চর মধুয়ার গ্রামীণ মেলা কিন্ডারগার্টেনের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত: বর্ষাকালে শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব

নরসিংদীতে প্রকাশ্যে কারেন্টের শক দিয়ে মাছ শিকার: ধ্বংসের মুখে মেঘনার জীববৈচিত্র্য

ছবি: খলিলুর রহমান রানা, মেঘনা টিভি

খলিলুর রহমান রানা।।

নরসিংদীর মেঘনা নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চলছে প্রকৃতির বিরুদ্ধে এক নীরব হত্যাযজ্ঞ। একশ্রেণির অসাধু চক্র প্রকাশ্যে বিদ্যুতের কারেন্ট ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। আইনের তোয়াক্কা না করে চলা এই অপরাধ শুধু মাছ নিধনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ধ্বংস করে দিচ্ছে নদীর পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোকবালি, শ্রীনগর, নীলক্ষা, চর মধুয়া, বাঁশগাড়ি, বেলোয়ারচর, চর সুবুদ্ধি এবং করিমপুর ইউনিয়নের রসুলপুর কান্দাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। রাতের আঁধার হোক কিংবা দিনের আলো—মেঘনা নদীতে কারেন্টের তার ফেলে নির্বিচারে মাছ শিকার চলছে।

পরিবেশবিদদের মতে, বিদ্যুতের শক দিয়ে মাছ ধরা পৃথিবীর অন্যতম ধ্বংসাত্মক ও নিষ্ঠুর মৎস্য শিকারের পদ্ধতি। এতে শুধু বড় মাছ নয়, লাখ লাখ রেণু পোনা, ডিম, ব্যাঙ, কাঁকড়া, জলজ কীটপতঙ্গ এবং অসংখ্য উপকারী জলজ প্রাণী মুহূর্তেই মারা যায়। ফলে নদীর খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিদিনই কমছে দেশীয় মাছের উৎপাদন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বৈধভাবে মাছ ধরা সাধারণ জেলেরা। এভাবে চলতে থাকলে একসময়ের প্রাচুর্যপূর্ণ মেঘনা নদী ভবিষ্যতে মৎস্যশূন্য জলাধারে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে—আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখের সামনে কীভাবে দিনের পর দিন এমন প্রকাশ্য অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে? কারা দিচ্ছে এই চক্রকে প্রশ্রয়? আর কেনই বা এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?

এ অবস্থায় এলাকাবাসী নরসিংদী জেলা মৎস্য, অফিস, নরসিংদী সদর মডেল থানা, রায়পুরা উপজেলা মৎস্য অফিস, রায়পুরা থানা ও বাঁশ গাড়ী পুলিশ ফাঁড়ি,করিমপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি, মৎস্য বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং মেঘনা নদীতে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর ভাষায়, এখননই যদি কারেন্ট দিয়ে মাছ নিধন বন্ধ না হয়, তাহলে আগামী প্রজন্মকে নদীর গল্প শোনানো যাবে, কিন্তু নদীর মাছ দেখানো যাবে না। প্রকৃতি রক্ষায় এখনই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের বিকল্প নেই।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


https://www.facebook.com/profile.php?id=100089135320224&mibextid=ZbWKwL