মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
এক ঘরে দুই এমপি স্বামীর পর সংসদে যাচ্ছেন স্ত্রী শিরীন সুলতানাও উপজেলা পৌরসভার পরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারই গুম কমিশনের বিপক্ষে ভোট দিলেন উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ জানা গেল ভালো নেই নরসিংদীর মুলি বাঁশের ছৈয়ালরা নরসিংদীতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত এক তৃতীয়াংশেরও বেশি শিক্ষার্থী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা মো. দিদারুল ইসলামের দালালের প্রলোভনে পড়বেন না— অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নরসিংদী প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় মামলা রায়পুরায় মেঘনা গ্রুপের থাবায় ফসলি, অকৃষি, সরকারি খাস জমি ও কাঁকন নদী 

গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারই গুম কমিশনের বিপক্ষে ভোট দিলেন

ছবি: সংগৃহীত

দল আন্ধা হয়ে ভুলে গেছেন গুম হয়ে নির্যাতন নিপীড়নের কথা,ভুলে গেছেন পরিবারের প্রিয় অভিভাবকের কথা।

অনেককে বলতে শুনি যে মানুষ হুম্মাম কাদের, মায়ের ডাকের তুলি কিংবা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী লুনাকে শুধু শুধু সমালোচনা করছে। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের পক্ষে কি কথা বলা কিংবা ভোট দেয়া সম্ভব?

এই প্রশ্ন শুনে আমি অবাক হই। এরা সকলেই হয় নিজে গুম হয়েছেন কিংবা তাদের প্রিয়জন গুমের শিকার হয়ে খুন বা নিখোঁজ হয়েছেন। তারা গুম হওয়া পরিবারের পক্ষে মিডিয়াতে কথা বলেছেন, আগের সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, গুম কমিশনে নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, গুমের বিরুদ্বে জন সচেতনতা তৈরী করেছেন। এই সবই সাহসী, কঠিন কাজ।

কিন্তু তুলনামূলক ভাবে সহজ কাজটি তারা করতে পারলেন না। গুম কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে সফল কমিশন। তাদের নিজেদের দল যখন গুম কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে দিলো (গুমের সাথে জড়িত সরকারী কিংবা বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের রক্ষা করার জন্যে মূলত), তারা কেউ সাহস করে নিজেদের দলকে বলতে পারলেন না যে এটা হাজার হাজার গুম হওয়া মানুষ আর প্রতিদিন দুর্বিসহ জীবন যাপন করা তাদের পরিবারের প্রতি চরম অন্যায়।

তারা নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে এটা বলতে পারলেন না যে তারা সজ্ঞানে স্বেচ্ছায় দলের এই সিদ্বান্তকে সমর্থন জানাতে পারবেন না। নিজের বিবেকের কাছে, নিজের পরিবারের কাছে, আরও হাজারো গুম হওয়া মানুষ আর তাদের পরিবারের কাছে তারা জবাবদিহিতা করতে পারবেন না।
কেনো পারলেন না? কেনো মূর্তির মতো তারা নিজেরাও নির্বাক হয়ে গেলেন? ক্ষমতার জন্যে।
আগামীতে যাতে আবার মনোনয়ন পান কিংবা এমপি হতে পারেন সেই জন্যে! এত্ত সস্তায় মানুষ প্রিয়জনের লাশ বিক্রি করে দেয়? এত্ত তাড়াতাড়ি মানুষ চরম অত্যাচার আর নির্যাতন ভুলে যায়?

নিজের দলে যদি মানুষের জন্যে, মানুষের পক্ষে প্রয়োজনের সময় দাঁড়াতে না পারেন তাহলে আর কখন, কোথায় দাঁড়াবেন?

আগামীতে যখন এসব বিষয়ে গণ মাধ্যমে কথা বলবেন কে শুনবে আপনাদের কথা? কেনো শুনবে? গুম বিষয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার আর গ্রহণযোগ্যতা তো হারিয়ে ফেললেন!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


https://www.facebook.com/profile.php?id=100089135320224&mibextid=ZbWKwL