নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধ ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রতিপক্ষের লোকজনের অব্যাহত হুমকি, মারধর এবং ঘর দখলের প্রতিবাদে আজ নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী বাচ্চু মিয়া (৬০)।
সংবাদ সম্মেলনে বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তৈয়ব, মোখলেছ ও মোমেন গংরা দীর্ঘদিন ধরে তার বৈধ মালিকানাধীন ৩৩ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে তিনি বর্তমানে মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে পারছেন না এবং তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনের মূল পয়েন্টগুলো: জমি দখল ও ভাঙচুর: বাচ্চু মিয়ার দাবি, তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমিতে বসবাস করছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা ২০০৫ সালের আগেই তাদের সমস্ত জমি বিক্রি করে দিলেও এখন পুনরায় ওয়ারিশ দাবি করে তার বসতবাড়ির টিনশেড ঘর ভেঙে কাঁচা ঘর নির্মাণ করে অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে।
অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া: সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাচ্চু মিয়া জানান, সন্ত্রাসীরা ধারালো দা ও কুড়াল নিয়ে তাকে ধাওয়া করে। এমনকি গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে তাকে প্রকাশ্য রাস্তায় প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
সামাজিক বিচার অমান্য: এই বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস-বৈঠক হলেও বিবাদীরা তা অমান্য করে এবং খোদ শালিসের মধ্যেই বৃদ্ধ বাচ্চু মিয়াকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
আশিক-কলা বাহিনীর ত্রাস: ভুক্তভোগী পরিবারটি এলাকায় ‘আশিক-কলা বাহিনী’ নামক একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্যের কথা উল্লেখ করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য: বাচ্চু মিয়া বলেন, “আমি একজন বয়স্ক মানুষ। নিজের জমিতে থেকেও আজ আমি পরবাসী। ওরা আমাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মারার হুমকি দিচ্ছে। আমি মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে পারি না, পরিবারের নিরাপত্তা নেই। আমি প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা এবং এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
আইনি পদক্ষেপ:এই ঘটনায় বাচ্চু মিয়া নরসিংদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে তৈয়ব, মোখলেছ, মোমেন, রুবেল ও বাবুসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তফসিল অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ জমিটি করিমপুর মৌজার সিএস/এসএ-২৮৯৯ এবং আরএস বাট্টা-৭৫৫৭/৭৮০৯, ৭৫৫৭/৭৮১০, ৭৫৫৭/৭৮০২ দাগের অন্তর্ভুক্ত।