আজ বুধবার সকালে নরসিংদী প্রেসক্লাবে “তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা” শীর্ষক এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে নরসিংদী জেলা হেযবুত তওহীদ।
জেলা হেযবুত তওহীদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গোলজার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন হেযবুত তওহীদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মাহবুব আলম মাহফুজ। নরসিংদী জেলার সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জিন্নাত আক্তারের সঞ্চালনায় আয়োজক সংগঠনের পক্ষে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের মিডিয়া সেলের প্রধান এস এম সামসুল হুদা, হেযবুত তওহীদ নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের আঞ্চলিক আমির আরিফ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম নারী সম্পাদক আয়শা সিদ্দিকা, নরসিংদী জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি ফারুক হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি রাষ্ট্রের শান্তি ও শৃঙ্খলা এবং জনগণের নিরাপত্তা নির্ভর করে সেই রাষ্ট্রের গৃহীত ব্যবস্থার উপর। রাষ্ট্রব্যবস্থা যদি ত্রুটিপূর্ণ হয়, তাহলে সেখানে শান্তি আসবে না। বক্তারা বলেন, মানবসৃষ্ট কোনো ব্যবস্থাই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, বরং অন্যায় ও সংঘাত সৃষ্টি করেছে। একমাত্র আল্লাহ প্রদত্ত জীবনব্যবস্থাই ন্যায়, সাম্য ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ যে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, একমাত্র আল্লাহর দেয়া বিধান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এখান থেকে উত্তরণ সম্ভব। হেযবুত তওহীদ মানুষের সামনে এই প্রস্তাব তুলে ধরছে।
বক্তারা রাষ্ট্রীয় অঙ্গনে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নাগরিক জীবনে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন, সাবেক সভাপতি নিবারণ রায়, নরসিংদী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সফিকুল ইসলাম রিপন,সিনিয়র সাংবাদিক আসাদুল হক পলাশ, মেঘনা টিলিভিশনের সম্পাদক খলিলুর রহমান রানা,ডেলি ইভনিং নিউজের হলধর দাস, প্রীতি রঞ্জন সাহা প্রমুখ। এসময় সাংবাদিকরা হেযবুত তওহীদের উত্থাপিত প্রস্তাবের উপর গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুর্নীতি, অর্থপাচার, অপরাজনীতি ইত্যাদি বন্ধের লক্ষ্যে অনেকেই প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থার নানা অসঙ্গতি চিহ্নিত করে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলছেন। এক্ষেত্রে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য হচ্ছে- শুধু কতিপয় সংস্কার দিয়ে নয়, বর্তমানে যে রাষ্ট্রকাঠামো বা সিস্টেম দিয়ে আমাদের দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রশাসন ইত্যাদি পরিচালিত হচ্ছে, সেই প্রচলিত ব্যবস্থাকেই আমূল পরিবর্তন করে সকল ধর্ম-বর্ণ, পেশার মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ সুশৃঙ্খল ভারসাম্যপূর্ণ একটি সিস্টেম বা ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। আমরা সেটি প্রস্তাব করছি।সবাই উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোবারক ৭১ টেলিভিশনে স্টাফ রিপোর্ট মোবারক হোসেন, নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বাবু নিবারণ রায়, পৃতিরঞ্জন সাহা, হলদর দাস, দৈনিক নরসিংদীর বানী সম্পাদক ফারুক মিয়া, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান রিপন, কাল বেলার জেলা প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম রানা, ইউ এন বি নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান পলাশ, ডিবিসি নিউজ এর নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি মোঃ স্বপন মিয়া ,মেঘনা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনার সম্পাদক খলিলুর রহমান রানাসহ আরো অনেকে।
জীবনব্যবস্থা হতে পারে দুই ধরনের মানবরচিত জীবনব্যবস্থা ও আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা। এতদিন আমাদের দেশ মানবরচিত জীবনব্যবস্থা অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে এসেছে, যা একদিনের জন্যও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিতে থাকতে দেয়নি। গত ৫৩ বছরে ১৭ বার সংবিধানে সংশোধনী আনা হয়েছে, বহু নির্বাচন হয়েছে, নতুন নতুন আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে, কিন্তু জাতির একটা মৌলিক সঙ্কটেরও টেকসই সমাধান হয়নি। মূলত মানবরচিত জীবন বিধান দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা দল যতই চেষ্টা করুক সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। সুতরাং বাংলাদেশের ইতিহাসের এই সংকটকালে আমাদের প্রস্তাবনা হলো- আসুন আমরা মানবরচিত ত্রুটিপূর্ণ জীবনবিধানের চর্চা বাদ দিয়ে, আল্লাহর দেওয়া নিখুঁত, ঐশী জীবনবিধান গ্রহণ করে নিই।
গত ৫৩ বছরে ১৭ বার সংবিধানে সংশোধনী আনা হয়েছে, বহু নির্বাচন হয়েছে, নতুন নতুন আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে, কিন্তু জাতির একটা সঙ্কটেরও টেকসই সমাধান হয়নি। মূলত মানবরচিত জীবনব্যবস্থা দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা দল যতই চেষ্টা করুক সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।
মানুষকে আল্লাহ কেন সৃষ্টি করেছেন তার উত্তর পাওয়া যায় কোর’আনের সুরা বাকারার ৩০ নম্বর আয়াতে। এই মোতাবেক জানা যায়, আল্লাহ একটা মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মানুষকে তাঁর ‘খলিফা’ বা প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। অর্থাৎ সৃষ্টিগতভাবেই মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহর খেলাফত (প্রতিনিধিত্ব) করতে দায়বদ্ধ। এই দায়িত্ব যাতে মানুষ ঠিকমত পালন করতে পারে সেজন্যই তিনি যুগে যুগে নবী-রসুলদের মাধ্যমে তাঁর পক্ষ থেকে জীবনব্যবস্থা বা দীন প্রেরণ করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় শেষ নবী মোহাম্মদ (সা) এর মাধ্যমে আল্লাহ যে দীন পাঠিয়েছেন, সেখানে যেমন নামাজ রোজা ইত্যাদির বিধান দিয়েছেন, একইভাবে।
তিনি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বিচারিক, সামরিক ইত্যাদি সকল বিষয়ের বিধানও দিয়েছেন। এই দীনে যারা ঈমান আনবেন-তাদের জন্য পুরো কোর’আনের বিধানই মেনে চলা বাধ্যতামূলক (সুরা বাকারা। ২০৮), এখানে কিছু মানবো আর কিছু অমান্য করবো- এমনটার সুযোগ নেই। তা করলে সেটা শিরক হবে, যা আল্লাহ ক্ষমা করেন না (সুরা নিসা: ৪৮)। সুতরাং আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা অনুযায়ী জাতীয় জীবন পরিচালনা করা কেবল উচিতই নয়, বাধ্যতামূলক, ফরজ। যা ছাড়া মো’মেনদের ঈমানই পূর্ণতা পায় না।
আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে রসুল (সা.) এমন নিরাপদ সমাজ গঠন করলেন যে, একা একজন নারী রাতের অন্ধকারে নির্ভয়ে শত শত মাইল পথ হেঁটে যেত। মানুষ ঘরের দরজা খুলে ঘুমাতে পারত। স্বর্ণের দোকান খোলা রেখে মসজিদে যেত। আদালতে মাসের পর মাস অপরাধ-সংক্রান্ত মামলা আসত না।
আল্লাহর দেওয়া বিধানে যে মানুষের মুক্তি আসবে তার নমুনা ইতোমধ্যেই ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেছে। ইতিহাসের পাঠকমাত্রই জানেন আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে আরবের জাহেলি সমাজের চিত্র কতটা ভয়াবহ ছিল।
সেখানে জন্মগ্রহণ করে আল্লাহর শেষ রসুল মোহাম্মদ (সা.) যখন কঠিন সংগ্রাম ও কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তওহীদভিত্তিক দীনুল হক বা আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করলেন, সঙ্গে সঙ্গে আরবের চেহারা পাল্টে গেল এবং অনাবিল শান্তি, সুবিচার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা হলো।
এমন নিরাপদ সমাজ গঠিত হলো যে, একা একজন নারী রাতের অন্ধকারে নির্ভয়ে শত শত মাইল পথ হেঁটে যেত। মানুষ ঘরের দরজা খুলে ঘুমাতে পারত। স্বর্ণের দোকান খোলা রেখে মসজিদে যেত। আদালতে মাসের পর মাস অপরাধ-সংক্রান্ত মামলা আসত না।
কালেভদ্রে দুই একজন নফসের তাড়নায় অপরাধ করে ফেললেও নিজেই বিচারকের কাছে এসে নিজের শাস্তি দাবি করত। এমন সমাজ কি কল্পনা করা যায় যেখানে ঘরে ঘরে অস্ত্র, তলোয়ার, কোনো পুলিশ বাহিনী নেই, অথচ কোনো অপরাধ নেই। মানবাধিকার এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে, ধর্ম-বর্ণ, সাদা-কালো, নারী পুরুষ ধনী দরিদ্র, আরব-অনারব, মুসলিম-অমুসলিম, মালিক-শ্রমিক ভেদাভেদ ছিল না। সবাই সমাজের চোখে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হয়েছিল।
অথচ কিছুদিন আগে এই মানুষগুলোই সকল প্রকার পাপকর্মে, দুর্নীতিতে, মাদকে, দাঙ্গা-হাঙ্গামায় ও বিশৃঙ্খলায় ডুবে ছিল। প্রশ্ন হলো, কোন পরশপাথরের ছোঁয়ায় সেই।
আমরা তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবদ্ধ আল্লাহর দেওয়া সেই চিরন্তন জীবনব্যবস্থাকেই আধুনিক প্রেক্ষাপটে পুনরায় প্রব করেছি। এই দীন রাসুল (সা.)-এর মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছিল, কিন্তু কালের বিবর্তনে তা বিকৃত ও বিস্তৃত হয়েছে। এখানে মৌলিক প্রস্তাবনাগুলো এখানে ইশতেহার আকারে তুলে ধরা হলো। সম্পূর্ণ ধারণা পেতে মূল বই পাঠ করা আবশ্যক।
আপনার মতামত লিখুন :
8 responses to “নরসিংদীতে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদ।”
https://shorturl.fm/H6Qfh
ধন্যবাদ কমেন্ট করে আপনার মূল্যবান মতামত জানোয়ার জন্য।
https://shorturl.fm/snxSL
ধন্যবাদ কমেন্ট করে মতামত জানোয়ার জন্য।
https://shorturl.fm/DKEWT
ধন্যবাদ কমেন্ট করে মতামত জানোয়ার জন্য।
https://shorturl.fm/iEsH4
ধন্যবাদ কমেন্ট করে মতামত জানোয়ার জন্য।